নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে পাকা ছাদ তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য দিয়েছে রাজ্য সরকার। এতে খুশি গ্রাম বাংলার মানুষ। কিন্তু, গরিব মানুষের সেই টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়েছে সাইবার চক্র। তাই উপভোক্তাদের আগাম সতর্ক করতে সচেতনতামূলক মাইকিং শুরু করল পুলিশ। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের তরফে আরামবাগ মহকুমার প্রতিটি থানাতেই মাইকিং করে সচেতনতার ব্যবস্থা করতে চাইছে পুলিশ। আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, বিগত দিনে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছ থেকে সাইবার অপরাধীরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল বলে শোনা যায়। এবারও নানা চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে আমাদের অনুমান। তাই যাতে কেউ কোনওভাবে ফোনের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান না করে তার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সচেতনতাই মূল হাতিয়ার। পাশাপাশি পুলিশও এব্যাপারে নজরদারি চালাচ্ছে।গত ২৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভায় আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইদিনই রাজ্যজুড়ে ২০ লক্ষ পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য। ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ব্লক প্রশাসনের তরফে উপভোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। ফলে শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে গরিব মানুষের স্বপ্ন পূরণের প্রক্রিয়া। সেই স্বপ্নে যাতে কেউ সিঁদ কাটতে না পারে, তার জন্যই পুলিশ তৎপর হয়েছে। বিগত দিনে বহু মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছে। প্রতারকদের ফোন পেয়ে নানাভাবে খুইয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। অনেক ক্ষেত্রেই সেই টাকা আর উদ্ধার হয়নি। ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন প্রতারিতরা। পুলিশ অধিকারীকদের একাংশের আশঙ্কা, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের ফোন করে টাকা লোপাট করার চক্র সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে। তাই এব্যাপারে প্রত্যেককে সচেতন থাকতে হবে।পুলিশ জানিয়েছে, কেউ নিজেকে ব্যাংক বা সরকারি কর্মী পরিচয় দিয়ে ফোন করে টাকা ফেরত, অ্যাকাউন্ট আপডেট বা যাচাইয়ের কথা বললে বিশ্বাস করা যাবে না। অচেনা নম্বর থেকে আসা যে কোনও লিংকে স্পর্শ করা ঠিক হবে না। সরকারি প্রকল্পের টাকা ছাড়ের জন্য কোনও ফোন কল, মেসেজ বা লিংকে ক্লিক করা যাবে না। এছাড়া কেউ ফোন করে জানতে চাইলে ওটিপি, এটিএম পিন বা ব্যাংক সংক্রান্ত কোনও তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনও সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে, তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ। এসডিপিও বলেন, বিগত দিনে একাধিক সাইবার অপরাধে খোয়া যাওয়া টাকা তদন্ত করে উদ্ধার হয়েছে। নানা ঘটনার এখনও তদন্ত চলছে। আবাস প্রকল্পে যাতে কেউ প্রতারকদের খপ্পরে না পরে তা নিশ্চিত করতে আমরা সচেতন করছি। বিভিন্ন বৈঠকেও এই সম্পর্কে বলা হচ্ছে। আরামবাগ মহকুমার প্রতিটি থানায় উপভোক্তাদের সচেতন করতে মাইকিংও করা হচ্ছে।