নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: লিলুয়ার স্টেশন রোডে শনিবার রাতে প্রকাশ্যে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, স্থানীয় এক প্রোমোটারের আশ্রয়ে থাকা জনা পঞ্চাশ দুষ্কৃতী লাঠি, লোহার রড ও ধারালো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাইকে চেপে এলাকায় ঢুকে একের পর এক দোকানে হামলা চালায়। মারধর করা হয় একাধিক ব্যবসায়ীকে। মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়েছেন কয়েকজন। রাতের অন্ধকারে আচমকা এই হামলায় ছুটোছুটি পড়ে যায় এলাকায়। আতঙ্কে দোকানের শাটার নামিয়ে দেন বহু ব্যবসায়ী। রাতেই আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।ঘটনার ভয়াবহতা ধরা পড়েছে এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। দেখা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা রীতিমতো দোকানে ঢুকে লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। কোথাও দোকানের জিনিসপত্র ভাঙচুর করার ছবিও উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোটা হামলাই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। প্রতিবাদে রাতেই স্টেশন রোড অবরোধ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অবরোধের জেরে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় লিলুয়া থানার পুলিশ। পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, এই ঘটনার পরেই অভিযুক্ত প্রোমোটার পলাতক বলে জানা গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, লিলুয়া স্টেশন রোডে প্রায় ২২ জন ব্যবসায়ী বহু বছর ধরে দোকান চালাচ্ছেন। যে জমিতে দোকানগুলি রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় এক প্রোমোটারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। এই বিবাদকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ বছর আগে মামলা হয়। মামলা চলাকালীন এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, চাপ সৃষ্টি করতেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে।শনিবারের এই হামলায় মুদি দোকানি আনন্দচন্দ্র জানা গুরুতর জখম হন। বলেন, ‘ওরা দোকানে ঢুকে বলল এখানে ব্যবসা করা যাবে না। তারপরেই হুড়মুড়িয়ে আরও কয়েকজন দোকানে ঢুকে লাঠি দিয়ে সজোরে আমার মাথায় মারল।’ তাঁর কথায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ঝরে পড়ছে। আরেক ব্যবসায়ী পার্থপ্রতিম দে বলেন, ‘এই হামলা অপ্রত্যাশিত নয়। এর আগেও বহুবার প্রোমোটারের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের। অনেকেই এখানে ৫০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছেন। এই ঘটনার পর আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’ প্রশাসনের কাছে দ্রুত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। নিজস্ব চিত্র