আনন্দপুর: তিনটি রান্নাঘরের কোনটি থেকে আগুন? হদিশ মেলেনি এখনও
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে আগুনের উৎস কোথায় ছিল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে এটা নিশ্চিত যে ডেকরেটর্স সংস্থার গোডাউনের কোনও অংশ থেকেই আগুন ছড়িয়েছিল। কিন্তু এত বড় গোডাউনের ঠিক কোন জায়গায় প্রথম আগুন লাগল, তা চিহ্নিত করতে গিয়ে ফাঁপরে পড়েছে নরেন্দ্রপুর থানা। ডেকরেটর্স সংস্থার গোডাউনে তিনটি রান্নাঘরের হদিশ মিলেছে। এর মধ্যে কোন রান্নাঘরে প্রথম আগুন লেগেছিল, সেটাই এখন তদন্তকারীদের সামনে বড় প্রশ্ন। এর উত্তর খুঁজে পাওয়া কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ? পুলিশ সূত্রে খবর, আগুনের নির্দিষ্ট উৎসস্থল জানা গেলেই কীভাবে আগুন পরপর দু’টি গোডাউনে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা স্পষ্ট হবে। এই কাজের জন্য একমাত্র ভরসা ফরেনসিক টিম। তাই রবিবার পোড়া গোডাউনে গিয়ে ফের অনুসন্ধান চালিয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, খাটাল লাগোয়া ডেকরেটর্স সংস্থার গোডাউনের একাংশে মাটির উনুন রয়েছে। দুর্ঘটনার রাতে সেখানে যে রান্না হচ্ছিল, তার প্রমাণও মিলেছে। ২৬ তারিখ সকালে সেখানে পোড়া কাঠা, হাঁড়ি, ডেচকি ইত্যাদি পাওয়া যায়। এছাড়া, গোডাউনের পিছনের দিকে যে তিনতলা বাড়ি, (ডেকরেটর্স কোম্পানির নানা সামগ্রী মজুত ছিল), সেখানেও রান্নার সরঞ্জাম পাওয়া গিয়েছে। গোডাউনের অন্য অংশে আরও একটি কিচেনের সন্ধান মিলেছে। ফলে ধন্দে পড়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না, কোন রান্নাঘর থেকে আগুন ছড়িয়েছিল। যদিও পুলিশের একটি সূত্র বলছে, যেখানে কাঠের চুল্লিতে রান্না হচ্ছিল, সেখান থেকেই আগুনের ফুলকি গিয়ে শুকনো কোনো সহজদাহ্য বস্তুর উপর পড়ে। সেখান থেকে বিধ্বংসী আকার নেয় আগুন। কিন্তু যতক্ষণ না এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো সিদ্ধান্তে আসতেও পারছেন না তদন্তকারীরা। রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরেনসিকের সদস্যরা আগুনের উৎস খুঁজে বার করার চেষ্টাই করেছেন। বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। সেসব পরীক্ষার পরই জানা যাবে, সেদিন আগুনের উৎসস্থল ছিল কোন রান্নাঘর। নাজিরাবাদে ঘটনাস্থলের আশপাশে যেসব গোডাউন রয়েছে, এদিন সেসব জায়গার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন দমকল আধিকারিকরা।পুলিশ সূত্রে খবর, পোড়া গোডাউনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র এখনই সেখান থেকে সরানো যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত হয়নি। মনে করা হচ্ছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত কিছুদিন জোড়া গোডাউন থেকে কোনোকিছু সরিয়ে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।