• দেবব্রতর দলত্যাগে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি, বিপাকে পদ্ম শিবির
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একটি দলত্যাগ হুগলিতে বিজেপির অন্দরের মুষলপর্বকে ফের একবার উসকে দিয়েছে। ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আগুন কার্যত দাবানল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক-পর্বে এই পরিস্থিতি দলীয় নেতৃত্বকে উদ্বেগে রেখেছে। ২০২১ সালে সপ্তগ্রাম বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস। তৃণমূল থেকে আসা ওই যুবককে প্রার্থী করা নিয়ে দলে গোল বেঁধেছিল। তারপরও নীচুতলার মতামত গুরুত্ব পায়নি। সেই দেবব্রতই গত সপ্তাহে তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। সেটাই বিজেপির অন্দরের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, কলহকে তুঙ্গে তুলেছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এমনিতেই প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্বের আবহ থাকে। দেবব্রতর দলত্যাগ সেই দ্বন্দ্বকে রীতিমতো ‘আত্মঘাতী’ পর্যায়ে তুলে দিয়েছে।দলীয় নেতৃত্বের একাংশ বলছে, পরিস্থিতি শাঁখের করাতের মতো। দ্বন্দ্বের সমাধান আছে, কিন্তু পরিণামে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে দলকেই। সমস্যা কোথায়? দেবব্রতর দলত্যাগে বিজেপির কট্টরপন্থীরা নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূল থেকে লোক এনে জামাই খাতির করে বারবার দলের মুখ পুড়ছে। অথচ দলের চির-অনুগতদের প্রার্থী করা হচ্ছে না। এবার সেই ধারা বদলাতে হবে। ওই অংশের দাবি, আগামী নির্বাচনে এর অন্যথা হলে দলে বিদ্রোহ হতে পারে। বিপদ এই যে, অন্যদল থেকে পদ্মপার্টিতে আসা বেশ কিছু নেতা ইতিমধ্যেই জাঁকিয়ে বসেছেন। চন্দননগর, চুঁচুড়া, বলাগড়, পাণ্ডুয়ার মতো বিধানসভা আসনে তাঁদের অনেকের প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত, এমনটাই জল্পনা। কট্টরপন্থীদের দাবি মানতে গিয়ে তাঁদের বাদ দিলে বিজেপি’র অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা আবার প্রবল। আবার, তাঁদের শেষপর্যন্ত প্রার্থী করলে স্থানীয় তথা পুরানো দিনের বিজেপি কর্মীরা কী ভূমিকা নেবেন, তা লক্ষ টাকার প্রশ্ন। ফলে, শিরে সংক্রান্তি অবস্থা বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের। এক নেতা বলেন, দেবব্রতর দলত্যাগ আমাদের নেতাদের বাঘের পিঠে সওয়ার করেছে। কতক্ষণ বসে থাকা যাবে জানা নেই। আবার, নামলেই বাঘের পেটে যেতে হবে। কট্টরপন্থীরা জেলা নেতৃত্বের সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ পেশ করেছে। যদিও দলের ওই মুষলপর্ব মানতে নারাজ জেলা নেতৃত্ব। দলের দাপুটে জেলা নেতা সুরেশ সাউ বলেন, প্রার্থীপদ নিয়ে বরাবরই শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয়। তা মেনে আমরা কাজ করি, এটাই শৃঙ্খলা। একটা দেবব্রত সেই শৃঙ্খলা ভাঙতে পারবে না। তবে পরিস্থিতি কখনও দলের সামনে কিছু জটিলতা এনে দেয়। সাংগঠনিকভাবেই তার মোকাবিলা করতে হয়।প্রসঙ্গত, দলের বিশ্বস্তদের প্রার্থী করা, জেলার নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে আগেই কেন্দ্রীয় পরিদর্শকের সামনে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন পদ্মপার্টির নীচুতলার কর্মীরা। গত নভেম্বর-ডিসেম্বর জুড়ে তা নিয়ে দলের অন্দরে বিস্তর শোরগোল হয়েছে। এরপর দেবব্রত ইস্যু সেই ধিকিধিকি আগুনকে লেলিহান শিখা করে তুলেছে। ফলে, আপাতত হুগলির পদ্মপার্টির অন্দরে কার্যত গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)