বাংলার মেট্রো বরাদ্দেও কোপ , বঞ্চনার রাজনীতির পরও কৃতিত্বের দাবিদার!
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গাছের গোড়ায় জল না দিয়ে ফল খাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি! রাজ্যের মেট্রো প্রকল্পগুলিতে বাজেট বরাদ্দ যেভাবে কমানো হল বা নামমাত্র বৃদ্ধি করা হল, তা দেখে এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, বাংলায় কোনো মেট্রো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তার সবটুকু কৃতিত্ব চেটেপুটে নিতে চেষ্টার খামতি রাখে না কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী বা নিদেনপক্ষে রেলমন্ত্রীকে দিয়ে প্রকল্পের উদ্বোধন করিয়ে সাফল্যের সুফল ভোটবাক্সে টেনে আনতে তৎপর হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবির। তারপরও বাংলার মেট্রো বরাদ্দে কোপ বসাতে দ্বিধা করছে না তারা। রবিবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের সাধারণ বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রাত পর্যন্ত রেলের বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রাম্ত ‘পিঙ্ক বুক’ প্রকাশিত না হলেও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে বাজেট নথি। তা থেকেই বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ছবি স্পষ্ট।সেখানে দেখা যাচ্ছে, নিউ গড়িয়া-কলকাতা বিমানবন্দর, ভায়া নিউটাউন মেট্রো প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবর্ষে এই খাতে ৯১১ কোটি বরাদ্দ হলেও এবার তা কমিয়ে ৭০৫ কোটি করা হয়েছে। কেএমআরসিএল (কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড)-এর আওতাধীন ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দও কমানো হয়েছে লক্ষণীয়ভাবে। গত বার ৬৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও এবার তা কমিয়ে ৫২৯ কোটি করা হয়েছে। জোকা-বি বা দী বাগ ভায়া মাঝেরহাট মেট্রো প্রকল্পে বরাদ্দ সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত বছর ৭২৩ কোটি বরাদ্দ হয়েছিল। এবার ৯০৬ কোটির বাজেট প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদিও ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে এই মেট্রো প্রকল্পের জন্য যে বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, তাও এবারের প্রস্তাবিত বরাদ্দের তুলনায় বেশি ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের এই মেট্রো প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯১৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছিল বাজেটে।সরকারি সূত্রে খবর, এবছর যদি রেলের ‘পিঙ্ক বুক’ প্রকাশ করা হয়, তাহলে কলকাতা ও লাগোয়া এলাকার মেট্রো প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার সামগ্রিক ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে। যদিও মেট্রো সহ বাংলার বিভিন্ন রেল প্রকল্পে নামমাত্র অর্থ বরাদ্দের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একাধিকবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই আঙুল তুলেছে রেলমন্ত্রক। সাংবাদিক বৈঠক থেকে শুরু করে সংসদে বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি পশ্চিমবঙ্গ সরকার অধিগ্রহণ করে দিতে পারছে না। জমি জটের জন্যই প্রকল্প রূপায়ণে দেরি হচ্ছে। একই কারণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও করা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে রাজ্যের বেশ কিছু মেট্রো প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ ‘আপাতত স্থগিত’ বলে ঘোষণা করেছে রেল। তা নিয়েও চলছে জোর বিতর্ক।