বজবজ স্টেশনের পরিষেবা ঘিরে একাধিক সমস্যা, সমাধানের দাবি
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: স্বামী বিবেকানন্দের পদধূলিধন্য ও কোমাগাতামারুর মতো ঘটনার ক্ষেত্র ঐতিহাসিক বজবজ স্টেশনে প্যাসেঞ্জার প্ল্যাটফর্ম এখনও একটি। ফলে যাত্রীদের নিত্যদিনের অসুবিধার শেষ নেই। এ জন্য ডবল লাইন হলেও আপ ও ডাউন ট্রেন একসময় ঢুকতে পারে না। দু’মাস আগে শিয়ালদহ থেকে বজবজগামী রাতের শেষ ট্রেন তুলে দেওয়া হয়েছে। রেলযাত্রীদের সমস্যার সমাধানের দাবি নিয়ে পূর্বরেলের ডি আর এমের সঙ্গে দেখা করতে চলেছে তৃণমূল।এ কারণে এক হাজারেরও বেশি নিত্যযাত্রীর স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৌশিক রায় বলেন, ‘শিয়ালদহ বজবজ শাখার এই অন্তিম স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। খুব শীঘ্রই এ নিয়ে আলোচনার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি।’ বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত বলেন, ‘পুর কর্তৃপক্ষেরও নজরে এসেছে। কাউন্সিলর কৌশিক রায়ের উদ্যোগের পাশে সবসময় থাকবে পুরসভা।’ ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৌশিকবাবু বলেন, বজবজ স্টেশন ঘিরে একাধিক স্মৃতি জড়িত। স্বাধীনতা আন্দোলনে এখানে ইংরেজদের গুলিতে অনেকে শহিদ হয়েছিলেন। তাঁদের স্মরণে কোমাগাথামারু। মহান বিবেকানন্দের মতো মানুষের পায়ের ধুলো পড়েছে এখানে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঐতিহাসিক স্টেশনের উন্নতিতে এবং নিত্যযাত্রীদের কথা ভেবে আরও একটি প্যাসেঞ্জার প্ল্যাটফর্ম তৈরির দরকার ছিল। যা আজও হয়নি। শিয়ালদহ-বজবজ শাখার ভিতর লেক গার্ডেনস, টালিগঞ্জ, নিউ আলিপুর, মাঝেরহাট, ব্রেসব্রিজ, সন্তোষপুর, আকড়া, নুঙ্গি স্টেশনে দু’টি করে প্যাসেঞ্জার প্ল্যাটফর্ম করেছে। একই সময় আপ ও ডাউন ট্রেন যাতায়াত করে। কিন্তু বজবজ স্টেশন সেই দিক থেকে বঞ্চিত রয়ে গিয়েছে। তার খেসারত দিতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু একটিমাত্র প্ল্যাটফর্ম থাকায় দিনে ও রাতে বেশ কিছু সময় ডাউন ট্রেন বজবজে ঢোকার আগে ১৪ নম্বর গেটের কাছে দাঁড়ায়। আপ ট্রেন বের হয়ে গেলে ডাউন ট্রেন ঢুকতে পারে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ড যেতে হলে লাইনের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। এজন্য অনেকদিন ধরে নিত্যযাত্রীদের দাবি একটি ফুটব্রিজের। তা হয়নি। শিয়ালদহ থেকে বজবজে আসার রাতের শেষ ট্রেন ছিল ১০ টা ৫৪ মিনিটে। তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা ফের চালুর দাবি তোলা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র