ঝাঁ-চকচকে শ্রেণিকক্ষ, স্মার্ট ক্লাস, ভোল বদলে গিয়েছে ব্রহ্মপুরের প্রাথমিক স্কুলের
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রঙচঙে শ্রেণিকক্ষ, দেওয়ালে কার্টুন চিত্র, পাশপাশি স্মার্ট ক্লাসও। যেন কোনো ‘জাদু’তে বদলে গিয়েছে গড়িয়া ব্রহ্মপুরের প্রাথমিক স্কুল মলিনা স্মৃতি শিশু শিক্ষা সদন। বর্তমানে স্কুলে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি পড়ুয়া রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী দিনে স্কুলের নবকলেবর আরও শিশুকে আকৃষ্ট করবে।ব্রহ্মপুরের শেখপাড়ায় এই স্কুল রাজ্য শিক্ষাদপ্তরের অধীনে। বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের মতোই এটিও পলেস্তরা খসা ভবনে পরিণত হয়েছিল। পড়ুয়া সংখ্যা দিন দিন কমছিল। যদিও স্কুলের দাবি, এই অবস্থাতেও এই স্কুলে ১৫০ জনের বেশি পড়ুয়া রয়েছে। আপাতাত, স্কুলের সংস্কারের জন্য পাশের একটি স্কুলে এখানকার পড়ুয়াদের নিয়ে ক্লাস হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে স্কুলটির। উদ্বোধন করেন টালিগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যাবদপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।স্কুলটির সংস্কারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন অরূপবাবু। পাশাপাশি, সায়নী ঘোষের সাংসদ তহবিল থেকেও ১৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।কার্যত ভোল পাল্টে গিয়েছে এই শিশু শিক্ষা নিকেতনের। স্মার্ট ক্লাস তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে আধুনিক বোর্ড, চেয়ার-বেঞ্চ সহ ই-লার্নিংয়ের যাবতীয় ব্যবস্থা। বেসরকরি স্কুলগুলির মতো রয়েছে শিশুদের নয়া পদ্ধতিতে পড়াশোনা করানোর জন্য নানা রঙিন সরঞ্জাম। এগুলি দিয়ে শিশুরা খেলার ছলেও শিখতে পারবে। নতুন পাঁচটি কম্পিউটারও দেওয়া হয়েছে। ঝাঁ-চকচকে ‘কালারফুল’ ক্লাসরুমে আটকাবে শিশুমন, দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুজাতা নায়েক বলেন, স্কুলকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। থাকছে আলাদা প্রার্থনা ঘর, মেডিটেশন রুম, কম্পিউটার রুম ইত্যাদি। আশা রাখছি, আগামী দিনে পড়ুয়া সংখ্যা বাড়বে।গোটা কাজের তদারকির দায়িত্ব সামলেছেন স্থানীয় ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ দাস। তিনি বলেন, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়ে স্কুলটি সংস্কারের ব্যবস্থা করেছেন। শিশুদের জন্য অডিও-ভিস্যুয়াল লার্নিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলে ‘রেন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ করা হয়েছে। মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য আলাদা ঘর বানানো থেকে শুরু করে আধুনিক বাথরুম তৈরি করা হয়েছে। স্কুলেই কিচেন গার্ডেনের ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানকার সবজিতেই মিড-ডে মিল চালানো যাবে ভবিষ্যতে। স্কুলে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।