আরও এক মাস সময় দেওয়ার দাবি খারিজ বোর্ড মিটিংয়ে গৃহীত ২ কাউন্সিলারের ইস্তফা
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভার দুই কাউন্সিলার ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। পুরসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে। শুক্রবার বিকেলে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে তা গৃহীত হওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। তখনই দক্ষিণ দমদম শহর তৃণমূলের সভাপতি (দমদম বিধানসভা) তথা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুকান্ত সেনশর্মা সহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। পদত্যাগী কাউন্সিলারদের আরও এক মাস সময় দেওয়ার দাবি জানানো হয়। যদিও চেয়ারম্যান সিংহভাগ কাউন্সিলারের সম্মতিতে পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার কথাই জানিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে দমদমে তৃণমূলের অন্দরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।গত ৩১ ডিসেম্বর দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপা পাণ্ডে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা করেছিলেন। তাঁরা মহকুমাশাসক ও পুরসভার চেয়ারম্যানকে পদত্যাগপত্র পাঠান। গত ৭ জানুয়ারি পুরসভার চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরি জানিয়ে দেন, আইন মেনে দুই অসুস্থ কাউন্সিলারের পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে। যদিও পদত্যাগের কারণ নিয়ে শাসক দলের অন্দরে জল্পনা চরমে ওঠে। কারণ, শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হলেও ওই দু’জন দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যথারীতি হাজির হচ্ছিলেন। এমনকি, তাঁরা সাংবাদিক সম্মেলনে এবং দলের ঘনিষ্ঠ মহলে জানান, পুর-পরিষেবার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে দমদম বিধানসভা এলাকা। তার প্রতিবাদেই পদত্যাগ। এই বিধানসভা এলাকার অন্যান্য কাউন্সিলারদের তাঁরা এই দাবিতে পদত্যাগ করতে বললেও কেউ আগ্রহ দেখাননি। সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে দলকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করে নিজেদের পদ হাসিলের কৌশল ভালো ভাবে নেয়নি তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। তাই শীর্ষ মহলের নির্দেশেই তাঁদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে।দুই কাউন্সিলারের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর গত শুক্রবারই প্রথম বোর্ড মিটিং হয়। সেখানে পদত্যাগপত্র এখনই গ্রহণ না করে আরও একমাস সময় দেওয়ার কথা বলেন সুকান্ত সেনশর্মা (রাজু)। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাপী মিত্র তাঁকে সমর্থন করে বলেন, ‘ওঁরা এখন আগের তুলনায় সুস্থ। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন। আর মাস আটেক বোর্ডের মেয়াদ বাকি। এখনই তাঁদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ না করে পরবর্তী বোর্ড মিটিং পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক।’৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অরূপ হাজরার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, ‘অরূপবাবু দু’বছর আগে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা এখনও গ্রহণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে কেন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?’ পালটা বাপীবাবুকে বলা হয়, ‘যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা তো চিঠি দিয়ে কোনো আবেদন করছেন না। তাঁরা তো অসুস্থ। কিছু হলে দায় কে নেবে? নাকি বাপীবাবু তাঁদের জোর করে পদত্যাগ করিয়েছিলেন!’ একসময় এনিয়ে বাগবিতণ্ডা চরমে ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল হয়নি। ফলে শহরের ১৫ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এখন কাউন্সিলার শূন্য। এনিয়ে এলাকার কোনো তৃণমূল নেতাই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি।