দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ
বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীপদ এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু এলাকাবাসীরা গোপনে নিজের এলাকার বাসিন্দাদেরই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। কোনও বহিরাগত প্রার্থী যাতে ঢুকে না পড়েন, সেই লক্ষ্যে ময়দানে নেমে পড়েছেন তাঁরা। বিধানসভা ভোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, পুরশুড়া বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। পুরশুড়া বিডিও অফিস চত্বরে পড়া পোস্টার ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বহিরাগত বনাম স্থানীয় প্রতিনিধি বিতর্ক। ফলাও করে পড়েছে পোস্টার। তাতে লেখা-'বিগত ১০ বছরের বিধায়কের পরিষেবার যন্ত্রণা আর সইবে না পুরশুড়াবাসী। পুরশুড়াবাসী এ বার নিজের ছেলেকেই বিধায়ক হিসেবে চায়।' অর্থাৎ, পদপ্রার্থীকে হতে হবে স্থানীয় কেউ। সে তিনি যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ক্ষোভের শিকড় আরও গভীরে। কারণ, বর্তমান বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বহিরাগত হলেও, তাঁর আগে টানা পাঁচ বছর পুরশুড়ার বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের এম নুরুজ্জামান। তিনিও বহিরাগত ছিলেন। ফলে, বহিরাগত ইস্যুতে দু'দলের বিরুদ্ধেই মানুষের মধ্যে অসন্তোষ জমেছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। তবে এখানেই রাজনৈতিক সমীকরণে স্পষ্ট পার্থক্য দেখছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষকে নিষ্ক্রিয় বলা যাচ্ছে না। এলাকায় তাঁর একাধিক কর্মসূচি, সভা, সংগঠনিক তৎপরতা চোখে পড়ছে। বিজেপি শিবির মাঠে সক্রিয়-এ কথা কার্যত স্বীকার করছে তৃণমূলের একাংশও। এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক ভাবে বিজেপির সঙ্গে পারছে না। শেষ তিনটি নির্বাচনে বিজেপি সব ক'টাতেই কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে। এই বার বিধানসভায় বিজেপি ৪০ হাজার ভোটে জিতবে।
ভূমিপুত্র কাকে বলে, ওরা জানে না। ভারতমাতার সন্তান মানেই ভূমিপুত্র। তৃণমূল বদনাম করার জন্য এ সব করছে।' অন্য দিকে, বর্তমানে পুরশুড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও দৃশ্যমান রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ। এই বিষয়ে পুরশুড়ার যুব তৃণমূল নেতা সৌরেন মাইতি বলেন, 'পোস্টারের কালার দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটা বিজেপির বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠীর কাজ। তৃণমূল কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করেন। তৃণমূল যাঁকেই প্রার্থী করুক, তাঁকে সামনে রেখেই লড়াই করব। পোস্টারেই বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি হারবে।'
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে তৃণমূলেও বহিরাগত ছিল, এখন বিজেপিতেও বহিরাগত। কিন্তু মানুষ এ বার সব হিসেব কষছে। শুধু দল নয়, মানুষ কাজ আর উপস্থিতি দেখছে। সব মিলিয়ে, পুরশুড়ায় পোস্টার কাণ্ড শুধু বিজেপি-বিরোধী আন্দোলন নয়, বরং দীর্ঘদিনের বহিরাগত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে এলাকার বাসিন্দাদের একটাই দাবি, তৃণমূল হোক বা বিজেপি, তাঁরা পুরশুড়ার ভূমিপুত্রকেই চান। ২০১১ সালে ভূমিপুত্র ছিলেন তৃণমূলের পারভেজ রহমান আর সিপিএমের অঞ্জন বেরা। তার পর থেকে অধিকাংশই বহিরাগত।