• শৌচাগার নির্মাণের টাকা নিয়ে বেপাত্তা!‌ বিজেপি নেত্রীর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগে তোলপাড়...
    ২৪ ঘন্টা | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • তপন দেব: ফের দুর্নীতির আঁচ। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণ করতে হবে, সেই লক্ষ্যে গোটা রাজ্যের সঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলাতেও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আলিপুরদুয়ার জেলার পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বহু দরিদ্র পরিবারকে শৌচাগার নির্মাণের জন্য প্রতিটি উপভোক্তার নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। উপভোক্তা নিজেই শৌচালয় নির্মাণ করে নেবেন, দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তি এখানে কাজ করবে না। শুধু তাই নয় ৩২৫টি ইট ব্যবহার করতে হবে এই শৌচাগার নির্মাণে। 

    সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আলিপুরদুয়ার এক নম্বর ব্লকের পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু মানুষ সরকারি আর্থিক সাহায্যে শৌচালয় নির্মানের টাকা পেয়েছেন। কিন্তু এতে সমস্যা বাধিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি পঞ্চায়েত সমিতি সদস্যা স্বাতী বিশ্বাসের স্বামী অমিত বিশ্বাস। অভিযোগ, অমিত বিশ্বাস যিনি একজন ঠিকাদার, শৌচাগার নির্মাণের জন্য টাকা নিয়ে কাজ সম্পূর্ণ করেননি এবং নিম্নমানের নির্মাণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিডিওএর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন উপভোক্তা। 

    স্থানীয় উপভোক্তাদের দাবি, অমিত বিশ্বাস তাদের কাছ থেকে শৌচাগার নির্মাণের জন্য টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ না করে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ছেড়ে চলে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, যেসমস্ত উপভোক্তারা প্রকল্পের আওতায় টাকা পেয়েছেন, তাদের কাছ থেকে শোচাগার নির্মাণের জন্য ৬ মাস বা ৮ মাস আগেই টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। শুধু তাই নয়, নির্মাণে ৩২৫টি ইট ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও, অমিত বিশ্বাস ১৬০টি ইট ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে দেখাও করেন না অমিত। 

    পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সুব্রত সরকার জানান, এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের নিজেদের কাজ করতে হবে, কোনও দালাল বা মধ্যস্থতাকারী থাকার কথা নয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি তদন্ত করেছেন এবং বিস্তারিত রিপোর্ট বিডিওকে দেওয়া হবে। সুব্রত সরকার আরও বলেন, 'আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

    অভিযুক্ত অমিত বিশ্বাস, বিজেপি সদস্যার স্বামী, অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'গরীব মানুষদের সাহায্য করার জন্য আমি এই কাজ করেছি। আমি টাকা নিয়েছি, তবে সব টাকা নয়। কয়েকজন উপভোক্তা নিজেরাই কিছু কাজ করার জন্য টাকা কেটেছিলেন।'

    ভোটের আগে এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। তারা দাবি করছেন, বিজেপির স্থানীয় নেতারা শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে লোকজনের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এলাকার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, এবং এর ফলে এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)