পোষা মুরগি দেখে তেড়ে আসত রাস্তার কুকুর। সেই রাগে পাথর দিয়ে কুকুরটির মাথা থেঁতলে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়ার নবপল্লির উত্তরপাড়া এলাকার ঘটনা। ওই কুকুরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পাড়ার লোকজন। পরে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়। সুরজিৎ মণ্ডল নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরজিৎ আইসক্রিমের ব্যবসা করেন। পাশাপাশি, বাড়িতে মুরগি পোষেন তিনি। ওই এলাকাতেই রাস্তায় ঘুরত একটি কুকুর। পাড়ার লোকজনের অধিকাংশেরই প্রিয় ছিল সে। কেউ তাকে ধলু, কেউ বা লালি বলে ডাকতেন। সকলেই যখন যেমন পারেন, খেতে দিতেন তাকে। সম্প্রতি চারটি শাবক প্রসব করে কুকুরটি। বাসিন্দারা জানান, সুরজিতের বাড়ির আশপাশে মুরগি ঘুরতে দেখে আগে কয়েক বার তেড়ে গিয়েছে কুকুরটি। তার জেরে কুকুরটির দিকে পাথর ছুড়ে মারতেন সুরজিৎ। এ দিন দুপুরে আবার তেড়ে যাওয়ায়, কুকুরটি মাথা লক্ষ্য করে ভারী পাথর ছুড়ে থেঁতলে দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় বেঁকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কুকুরটি।
খবর পেয়ে সুরজিতের বাড়িতে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। কেন এ ভাবে অবোলা প্রাণীটিকে হত্যা করা হল, জানতে চান তাঁরা। অভিযোগ, সামান্য অনুশোচনাও ছিল না সুরজিতের। এর পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রিয়ব্রত মুখোপাধ্যায় নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা। পুলিশ সুরজিৎকে গ্রেফতার করে।
প্রিয়ব্রত বলেন, “এলাকার সকলেরই প্রিয় ছিল কুকুরটি। সকলে খেতে দিতেন, আদর করতেন। মুরগির কোনও ক্ষতি করেনি। শুধু তেড়ে গিয়েছে। তাতেই মেরে ফেলল। এলাকার লোকজন এ নিয়ে বলতে গেলে হুমকিও দেয় সুরজিৎ। আগেও এ ভাবে কুকুরের দিকে পাথর ছুড়েছে ও।” সুরজিৎ রায় নামে স্থানীয় এক পশুপ্রেমী বলেন, “আমি কাছেই থাকি। খবর পেয়ে এসে দেখি, কুকুরটিকে নৃশংস ভাবে মারা হয়েছে।’’ বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় পুরপ্রতিনিধির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে পশুহত্যার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।