আরও দামি হল বিড়ি। অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদে নদী ভাঙনের জন্য বরাদ্দ হল না কানাকড়িও। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেটে বিড়ি এবং ভাঙন প্রতিরোধে বরাদ্দ না রাখায় হতাশ বিড়ি মালিক, শ্রমিক এবং ভাঙন দুর্গত পরিবারগুলি।
মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ২০ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন। এঁদের মধ্যে সাত লক্ষ জঙ্গিপুর লোকসভার বাসিন্দা। গঙ্গা ও পদ্মার ভাঙনে প্রতি বছর ক্ষতি হয় এই লোকসভার বহু গ্রামের। জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘ভাঙনের প্রসঙ্গ লোকসভায় বার বার তোলা হয়েছে। আশা করেছিলাম, ভোটমুখী বাজেটে শমসেরগঞ্জের ভাঙন রোধে কয়েকশো কোটি টাকা বরাদ্দ হবে। কিন্তু বরাদ্দ নেই বাজেটে। অন্য দিকে, করের বোঝা চাপিয়ে বিড়ি শিল্পকে সঙ্কটে ফেলে দেওয়া হল।’’ বিড়ি মালিক সংগঠনের সম্পাদক রাজকুমার জৈন বলেন, “বিড়িতে জিএসটি ২৮ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হলেও তামাকজাত পণ্যের উপরে ১০ শতাংশ এক্সাইজ় ডিউটি বসেছে। তামাকের জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ শতাংশ। প্রাপ্তি বলতে কেন্দুপাতার জিএসটি কমিয়ে দু’শতাংশ করা হয়েছে। প্রতি হাজার বিড়িতে সাড়ে ১০ থেকে ১১ টাকা করেদাম বাড়বে।”
সিটুর বিড়ি ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি জ্যোতিরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “রাজ্য সরকার চাপ দিতে ব্যর্থ বলেই কেন্দ্রের এই উদাসীনতা।’’ আইএনটিইউসির বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের জঙ্গিপুর মহকুমায় সহকারী সম্পাদক আলি রেজা বলেন, “দু’টি ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গরিব মানুষ।” কংগ্রেস নেতা আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “বিড়ি শিল্পাঞ্চলে ভাঙন পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা। অথচ কেন্দ্র ও রাজ্য মুখ ফেরাচ্ছে।’’ বিজেপির উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, “জলসম্পদ মন্ত্রকের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে ফরাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে, তা দিয়ে ভাঙন রোধে কাজ করাতে সকলের সরব হওয়া উচিত।’’