মৃত্যু নিয়ে রাজনীতির পন্থা যুগ-যুগ ধরে চলছে। বিশেষ করে ভোট আসলে সেই রাজনীতির প্রবণতাও বাড়ে। হলদিয়ায় শনিবারের দুর্ঘটনার পরে মৃতদের পরিজনেদের পাশে থাকার জন্য শাসক দল তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে যে প্রতিযোগিতা দেখা গেল, তাকে ‘মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি’র প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলে বর্ণনা করেছেন রাজনীতিকদের একাংশ।
নিয়ন্ত্রণহীন বাসের ধাক্কায় শনিবার ব্রজলালচকের ঘোষের মোড়ের কাছে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। দুর্ঘটনায় মৃত এবং আহতদের পাশে থাকা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক টক্কর। এক পক্ষ ছুটেছে আহতদের পাশে থাকতে এবং ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে, অন্য পক্ষ আবার মৃতদের শেষকৃত্যে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে যাবতীয় ব্যবস্থা করেছে।
আহতদের মধ্যে চার জন হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে, চার জন তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ এবং তিন জন কলকাতায় চিকিৎসাধীন। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তার আগে এই দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহতদের পাশে থাকার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। শনিবার সন্ধ্যায় আহতদের দেখতে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে যান স্থানীয় বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা শাসক ইউনুস রিশিন ইসমাইল। আহতদের হাতে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন তাপসী।
সোমবার মৃত বাস চালকের পরিবারকে সরকারি নির্দেশে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হবে। তবে যে পরিবারের তিন জন মারা গিয়েছেন তাঁদের উত্তরাধিকারী সংক্রান্ত বৈধ নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এর পর তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
একই পরিবারের তিন জনের শেষকৃত্যে মাল্যদান করেন বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী এবং আরএসএস নিয়ন্ত্রিত শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের রাজ্য সভাপতি প্রদীপ কুমার বিজলী। শেষকৃত্যের কাজ দেখাশোনা করেন পদ্ম শিবিরের নেতারা।
বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন,"মৃতদের পরিবার টাকা পায়নি। বেছে বেছে আহতদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন বিধায়ক।" আর তাপসী বলছেন," দুর্ঘটনার পর বিজেপিকে কোথাও দেখা যায়নি।’’