কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট শিল্প ক্ষেত্রের জন্য আশানুরূপ কিছু নিয়ে এল না, মনে করছেন আসানসোল-রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের বণিক মহল থেকে শ্রমিক সংগঠনগুলি। তাঁরা জানান, এ রাজ্যে এ বছরেই বিধানসভা নির্বাচন থাকায়, রাজ্যের জন্য বিশেষ কোনও বার্তা থাকবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। আদতে তেমন কিছু মিলল না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের কাছ থেকে।
আসানসোল চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক শম্ভুনাথ ঝা জানান, শুধু রেলের পরিকাঠামো বাড়ানো হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। গ্ৰেড-২ শহরের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। এই প্রকল্পে আসনসোল শহরের ভাগ্যেকী জুটবে, সে দিকে তাকিয়ে আছেন বলে জানান তিনি। রানিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রোহিতখেতান বলেন, ‘‘দুর্গাপুরে শিল্প করিডরের ভাবনাকে স্বাগত। তবে দ্রুত শুরু না হলে এই ভাবনা হয়তো পর্দার আড়ালে চলে যাবে। এটাই উদ্বেগের।’’ তাঁর মতে, ছোট-মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির জন্য করে ছাড়, সুদেরহার কমিয়ে ঋণদানের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা বণিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজয় খেতান জানান, পরিবহণে উন্নতি, মূল্যবৃদ্ধি আটকানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়নি। তাই এই বাজেট আশানুরূপ নয়। ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি সন্দীপ ভালোটিয়া জানান, দিন দিন মানুষের আয় কমছে। স্বাস্থ্যবিমায় জিএসটি ছাড় দেওয়া হলেও, বিমা সংস্থাগুলি কিস্তি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং নিজস্ব শিল্পোদ্যোগের উপরে সবচেয়ে বেশি শ্রমজীবী মানুষ নির্ভরশীল। সে ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। দুর্গাপুর শিল্প করিডর কবে হবে, তা পরিষ্কার হওয়া দরকারবলেও মত তাঁর।
বাজেট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে নানা শ্রমিক সংগঠনও। সিটুর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনোজ দত্ত অভিযোগ করেন, ইস্কোর আধুনিকীকরণ থমকে যাওয়া, চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো, দুর্গাপুর ইস্পাত এবং মিশ্র ইস্পাত কারখানার আধুনিকীকরণের বিষয়ে কোনও কথা বলা হয়নি। দুর্গাপুরে শিল্প করিডোরের কথা বলা হয়েছে। অথচ, সেখানে এমএএমসি-র মতো বন্ধ কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি। খনি বেসরকারিকরণ আটকানোর প্রচেষ্টা নেই। ফলে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের কোনও লাভ হবে না এই বাজেট থেকে।
আইএনটিটিইউসি নেতা চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও দাবি, ‘‘এই বাজেটে কর্মসংস্থানের উপরে জোর দেওয়ার কোনও চেষ্টাই হয়নি। পশ্চিম বর্ধমানে বন্ধ হয়ে থাকা দশটির বেশি কেন্দ্রীয় শিল্প সংস্থার জমিতে নতুন বা পুরনো শিল্প হলে আশা মিটবে।’’ বিএমএসের পশ্চিম বর্ধমান জেলার সদস্য সৈকত চট্টোপাধ্যায় যদিও দাবি করেন, ‘‘দুর্গাপুরে শিল্প করিডোর হওয়া মানে শিল্পাঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া। তাই এটা খুশির খবর।’’