শীতের সকালে রাজধানীতে চড়ল রাজনীতির পারদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবিত হলেও নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘মৃত’, এমন ৫০ জন ভোটারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। SIR-র কারণে পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এমন পরিবারগুলির সদস্যরাও এসেছেন দিল্লিতে। বাংলা থেকে আসা সেই সাধারণ মানুষদের হেনস্থা করছে দিল্লি পুলিশ বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, অতিসক্রিয়তা দেখিয়ে হেইলি রোডের বঙ্গভবন ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশ। তল্লাশি চালানো হচ্ছে সেখানে। তাতে আতঙ্কিত পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সাধারণ পরিবারের মানুষ। এই খবর পেয়েই এক কাপড়ে চাণক্যপুরীর বঙ্গভবন থেকে হেইলি রোডের বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হন তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দিল্লিতে যখন বিস্ফোরণ হয়, তখন এত পুলিশ কোথায় থাকে? আমি দিল্লি এলেই এরা ঘাবড়ে যায়। চাইলে আমি লাখ লাখ লোক নিয়ে আসতাম- তা করিনি। নিয়মের বাইরে কিছু করছি না। যা করছি অনুমতি নিয়েই করছি।’ এখানেই শেষ নয়, তাঁর কথায়,‘আসল হচ্ছে মাথায় বসে থাকা ওই লোকটা। দিল্লি পুলিশ আমাদের রাজ্যের লোকদের উপরে অত্যাচার করছে। হুমকি দিচ্ছে। অমিত শাহ বাংলায় এলে লাল কার্পেট পেতে অভ্যর্থনা করা হয় আর আমরা দিল্লি এলেই ব্ল্যাক কার্পেট!’
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দিল্লিতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রয়েছেন দিল্লির চাণক্যপুরী এলাকার বঙ্গভবনে। অন্যদিকে, হেইলি রোডের বঙ্গভবনে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩০ পরিবারের সদস্যরা। এই ৩০ পরিবার SIR-এর কারণে কোনও না কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি খবর পেয়েছেন হেইলি রোডের ওই বঙ্গভবন ঘিরে ফেলেছে দিল্লি পুলিশ। ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছেন তারা। এই ঘটনার খবর পেয়েই অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন তিনি। সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে তৃণমূল নেত্রী বলেন,‘দিল্লি পুলিশ এ ভাবে বঙ্গভবনে তল্লাশি চালাতে পারেন না। দিল্লিতে জমিদারি চলছে, গরিব লোকের জন্য কোনও জায়গা নেই। অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে পুলিশ। সবাই ভয় পাচ্ছে। সুরক্ষা নয়, বাঙালি পরিবারদের ভয় দেখাতে এসেছে পুলিশ। কমিশনের অত্যাচারে ১৫০ লোক মারা গিয়েছে বাংলায়। SIR-এর নামে অত্যাচার করছে ওখানে, এখানে ভয় দেখাচ্ছে। দিল্লি পুলিশ নয়, দিল্লি পুলিশের মাথাকেই দোষ দেব।’
এর পরেই দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘এমন কাজ করবেন না। দিল্লিতে বঙ্গভবনের বাইরে যে ভাবে বাড়াবাড়ি রকমের নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করছে দিল্লি পুলিশ, তাতে ভয় পাচ্ছেন ভিতরে থাকা সাধারণ আবাসিকরা।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমরা বিক্ষোভ করতে আসিনি । আমাদের হয়রান করবেন না। আমাকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। অনেক দূর দূর থেকে আমরা ওঁদের নিয়ে এসেছি। ওঁদের ভয় দেখানো যাবে না।’ এখানেই শেষ নয়, তিনি বলেন,‘এটা যেন ভেবে না নেওয়া হয় আমরা বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি নেব। আমাদের চ্যালেঞ্জ করবেন না। আমরা কি্ন্তু ডেঞ্জারাস হয়ে উঠতে পারি। আমাদের পেশী শক্তি দেখাবেন না। এ দেশে কেউ লড়াই না করলেও আমি লড়াই করব। ওরা এখানে এসেছে জানাতে কী ভাবে SIR-এর জন্য তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। দিল্লির লোকেরা তো জানে না কী অত্যাচার হচ্ছে বাংলার মানুষের সঙ্গে।’
পরে বঙ্গভবনের ভিতরে সকলের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা সকলকে আশ্বস্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, SIR-এর নামে বাংলায় কী চলছে তা জানাতে বুধবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করবেন তিনি।