বাঘ ও বাঘরোল (ফিশিং ক্যাট), দুই জন্তুর মধ্যে চারিত্রিক, শারীরিক, খাদ্যাভাসে বিরাট ফারাক। কিন্তু হুগলির গোঘাটে ঘোরাফেরা করছে কে? তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকটি ছাপ নিয়ে। গোঘাটের রঘুবাটি অঞ্চলের একাধিক গ্রামে একটি নির্দিষ্ট ছাপ দেখতে পাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, ওই ছাপ বাঘের। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের বক্তব্য, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় নির্দিষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে। রাত নামলেই পথকুকুরগুলি অস্বাভাবিক চিৎকার করছে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকের দাবি, দূর থেকে একটি বড় আকারের জন্তুকে তাঁরা দেখতে পেয়েছেন, যা দেখতে বাঘের মতো।
এই ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার বন দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালান। এখনও পর্যন্ত কোনও বন্যপ্রাণীর সন্ধান মেলেনি। ফলে এখনও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েই গিয়েছে। ওই জন্তু, বাঘ, বাঘরোল নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন বনকর্মীরাও।
বন দপ্তরের এক আধিকারিক আশরাফুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই ওই এলাকায় তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। আদিবাসীরা একটি জায়গা ঘিরে রেখেছিল। সেখানেও যান বনকর্মীরা। ঝোপ, জঙ্গল-সমস্ত এলাকা খতিয়ে দেখেও কিছু মেলেনি। যে ছাপ মিলেছে, তা দেখে কোনও কিছু বোঝা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বাঘ আসার সম্ভাবনা থাকে না। তবে বাঘরোল হতে পারে।’ এ নিয়ে বিভ্রান্ত না ছড়ানোর আবেদন করেন তিনি। আশরাফুল বলেন, ‘পরিস্থিতির উপরে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে। আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি।’