• বইমেলায় গাইলেন আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারের আবাসিকেরা
    আজকাল | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বইমেলার নবমী-নিশিতে ওঁরা এসেছিলেন এক ঝলক মুক্ত হাওয়ার মতোই। ওঁরা মানে আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারের এক দল আবাসিক। নিজেদের অতীত ভুলে ওঁরা মাতলেন গানের সুরে। মাতিয়ে দিলেন উপস্থিত শ্রোতাদেরও। ঠিকানা রাজ্য মহিলা কমিশনের স্টল। 

    মঙ্গলবার এই বছরের মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। তার আগে সোমবার তাই দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই ঢল নামল সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কের মাঠে। সপ্তাহের প্রথম দিনেই তাড়াতাড়ি কাজ গুটিয়ে বইমেলামুখী কলকাতা। 

    দিনভরের বই কেনা, খাওয়াদাওয়া, ছবি তোলা, আড্ডার কোলাজে সন্ধে হতে না হতেই জুড়ে গেল গান। কমিশনের স্টলের সামনে ছোট্ট চত্বরটায় রোজই কিছু না কিছু অনুষ্ঠান চলে এ সময়ে। এদিন সেখানেই একগুচ্ছ গানের ডালি সাজালেন মহিলা সংশোধনাগারের আবাসিকরা। একের পর এক জমাটি লোকগানে ভরে গেল চত্বর। বইমেলার ভিড়টাও পাক খেতে খেতে বারবারই দাঁড়িয়ে পড়ছিল তার টানে। 

    সংশোধনাগারের আবাসিকদের দলটায় ছিলেন মোট ছ’জন। তাঁদের মধ্যে চার জন আমজনতার সামনে এসে এভাবে গান গাইলেন এই প্রথম। শুরুতে তাই খানিকটা ভয়েই ছিলেন হয়তো। কিন্তু শ্রোতাদের হাততালি, গলা মেলানোয় সে ভয় কাটতেও সময় নেয়নি বেশি। ছ’জনের দলটাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করেছে লোকগানের জনপ্রিয় মহিলা ব্যান্ড ‘মাদল’। তারাও যোগ দিয়েছিল অনুষ্ঠানে। দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ দফতর ও কারা দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তারা। ছিলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের সদস্যরাও। 

    এমনিতে ওঁদের দিন কাটে লোকচক্ষুর অন্তরালে। সর্বসমক্ষে আসার সুযোগ মেলে না বললেই চলে। এদিন তাঁরাই আমজনতার সামনে। প্রাণ খুলে গাইলেন ‘বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না’, ‘কমলাসুন্দরী’, ‘বন্ধু তিন দিন’-এর মতো একের পর এক জনপ্রিয় গান। তাXদের সুরে-তালে-ছন্দে দুলল শ্রোতাকুল। মেলার মাঠ বুঝি এভাবেই মিলিয়ে দিতে জানে!
  • Link to this news (আজকাল)