ফাঁকা সভায় বক্তব্য রাখলেন রাজ্যের মন্ত্রী, প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে
আজ তক | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার আর সামনের আসনে গুটি কয় লোক। কার্যত ফাঁকা দর্শক শ্রোতার আসন। সামনেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মন্ত্রীর সভার এমন ছবিতে শোরগোল। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর। SIR-এর প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পূর্বস্থলী স্টেশন সংলগ্ন মাঠে পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল শনিবার বিকালে। সভার প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। সভার শুরুর দিকে মাঠ ভর্তি থাকলেও, প্রদীপ মজুমদারের বক্তব্যের সময় হঠাৎই মাঠ ফাঁকা হতে থাকে। একটা সময় সামান্য কিছু মানুষকে নিয়েই বক্তব্য চালিয়ে যেতে হয় মন্ত্রীকে।
এই ছবি তুলতে গেলে রে রে করে তেড়ে আসেন তৃণমূলের কর্মীরা। বিধায়কের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভাতে সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। সাংবাদিকদের মারতে উদ্যত হন তৃণমূল কর্মীরা। ডিলিট করতে বাধ্য করা হয় সেই ভিডিও। হেনস্তা করা হয় এক মহিলা সাংবাদিক-সহ আরও কয়েকজনকে। কেন ফাঁকা মাঠের ছবি তোলা হবে? এই প্রশ্ন করতে থাকেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা।
BJP-র দালাল বলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। ঘটনাস্থলে হাজির হন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। এরপর বিধায়কই দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিধায়কের সামনে মহিলা সাংবাদিককে মারধর করা হয় এবং তাঁর হাত থেকে মোবাইল মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কোনওক্রমে এলাকা ছাড়েন সাংবাদিকরা। সত্য খবর পরিবেশনে কেন এত ভয় তৃণমূল কর্মীদের, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে BJP-র রাজ্য কিষাণ মোর্চার সভাপতি রাজীব ভৌমিক ও CPIM পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সাহা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা বলেন, 'তৃণমূলের সভায় লোক আসেনি এটা তৃণমূলের দুর্বলতা।'
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন,'অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কিছু অতি উৎসাহী কর্মী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে বিধায়কের উপস্থিতিতে কিছু হয়নি। বিধায়ক পরিস্থিতি আয়ত্তে এনেছেন। এই ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়।'