• বন্ধুত্ব বটে! হম্বতম্বি করেও শেষমেশ ট্যারিফ কমালেন ট্রাম্প, ‘আমার প্রিয় বন্ধু…’, কী বার্তা মোদীর?
    এই সময় | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সোমবার ভারতে তখন রাত নেমেছে। সেই সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা, তিনি ট্যারিফ ফাঁস থেকে মুক্ত করছেন দিল্লিকে। পারস্পরিক শুল্কের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করছেন। এর পরে ট্রাম্পকে ১৪০ কোটি দেশবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    প্রশ্ন উঠছে, এক ফোনেই শুল্ক সমস্যার সমাধান! মোদী-ট্রাম্পের ‘ব্রোম্যান্স’ নিয়ে চর্চা ছিল গোটা বিশ্বে। কিন্তু ‘বন্ধু’-র দেশ রাশিয়ার থেকে খনিজ তেল কিনছে, তা নাকি মনে প্রাণে মানতে পারেননি ট্রাম্প। এর পরেই ভারতের উপরে চাপিয়েছিলেন শুল্কের বোঝা। এ দিকে তেল কেনা নিয়ে অন্যের মন জোগানো বা অন্যকে ‘তেল দেওয়া’ নীতিতে যে কোনও ভাবেই হাঁটবে না দিল্লি, তা ঠারেঠোরে বোঝানো হয়েছিল একাধিক বার। বরং মার্কিন ট্যারিফ ফাঁসের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল নয়া দিল্লি। তা মোটেও ভালো ভাবে হজম করেননি ‘ডন’। বেশ কিছু বিবৃতি দিয়ে ‘গাঁইগুঁই’ করেছিলেন ট্রাম্প ঘনিষ্ঠরা।

    পরিস্থিতি নয়া মোড় নেয় ২ ফেব্রুয়ারি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর দাবি করেন, ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প এবং মোদী। সঙ্গে তিনি আরও একটি লাইন জুড়ে দেন, ‘নজর রাখুন’। এই ঘোষণার এক ঘণ্টাও কাটেনি, ভারতের উপর থেকে ট্যারিফের বোঝা কমানোর কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। অবিলম্বে ভারতীয় পণ্যের উপরে তাদের পারস্পরিক শুল্কের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করছে আমেরিকা। পাল্টা সাউথ ব্লকও আমেরিকান পণ্যের উপর থেকে সমস্ত শুল্কের বাধা সরিয়ে তা ‘শূন্য’ শতাংশে নামিয়ে আনবে, দাবি ট্রাম্পের। অর্থাৎ ট্রাম্পের চাপানো অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক যেমন খারিজ হলো, তেমনই আগের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফও ৭ শতাংশ কমল।

    ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মোদী লেখেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে আজ দারুন লাগল। তিনি ভারতীয় পণ্যের উপরে ট্যারিফ কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছেন। ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।’

    তাঁর সংযোজন, ‘যখন দুই বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে, তখন মানুষ উপকৃত হয়। তা দুই পক্ষের জন্যই অগাধ সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। আমি তাঁর সঙ্গে আরও গভীর ভাবে কাজ করে দু’পক্ষের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।’

    একদিকে যখন ট্রাম্পের প্রশংসায় মোদী পঞ্চমুখ, সেই সময়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব বিরোধীরা। মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। কেন এই বিষয়ে নয়া দিল্লির পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল ওয়াশিংটনের তরফে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি ‘ট্রাম্প নির্ভরতা’ বিষয়টির উপরে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)