জল এবং নিকাশিতে ট্যাক্স বসালেই অতিরিক্ত বরাদ্দ, অর্থ কমিশনের সুপারিশ মানছে কেন্দ্র
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ফেলো কড়ি মাখো তেল। কেন্দ্রীয় সরকারের এখন নয়া স্লোগান সংস্কার। রাজ্যগুলির উপর সেই সংস্কারের চাপ বাড়াতে তৎপর মোদি সরকার। মাধ্যম অর্থ কমিশনের সুপারিশ। আর তার আড়ালে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা চাপানোর কৌশল।পুরসভা এলাকায় বিনামূল্যে জল সরবরাহ এবং নিকাশি ব্যবস্থায় ঢালাও বদল চাইছে অর্থ কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব কেন্দ্রকে করা হয়, তার মধ্যে থাকে দুটি ভাগ। একটি অনুদান এবং অন্যটি মোট আদায়ীকৃত ট্যাক্সের ভাগ। প্রথম প্রাপ্যের মধ্যে থাকে মূলত পুরসভা এলাকার পরিষেবা এবং উন্নয়নের কাজের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। ষোড়শ অর্থ কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে সুপারিশ করা হয়েছে, পুরসভা এলাকার জন্য যে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া যাবে, সেটি তখনই কেন্দ্র দেবে, যখন একঝাঁক সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া হবে। যার মধ্যে প্রধান হল, জল সরবরাহের উপর মাশুল চাপাতে হবে। দেশের বিভিন্ন মেট্রো ও নন মেট্রোশহরগুলিতে পুরসভার জল সরবরাহের জন্য নাগরিকদের নির্দিষ্ট টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ জলের বিল দিতে হবে। নিকাশি ব্যবস্থার জন্যও প্রপার্টি ট্যাক্সের মধ্যে নির্দিষ্ট মাশুল নেওয়া হয়। কিন্তু সব রাজ্যে এই নিয়ম এখনও চালু হয়নি। অর্থ কমিশন শর্ত আরোপ করেছে যে, কমিশনের গ্র্যান্টস ইন এইড খাতে যে টাকা কেন্দ্র থেকে পুরসভা পেতে চাইবে, সেটার কিছুটা হবে শর্তসাপেক্ষ। প্রধান দুই শর্ত জল বিল এবং নিকাশি বিল। পুরসভাগুলির জন্য ষোড়শ অর্থ কমিশন ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে বলেছে। যা মোট প্রাপ্যের ৪৫ শতাংশ। পঞ্চদশ অর্থ কমিশন এই অনুদান ধার্য করেছিল ৩৬ শতাংশ। পারফরম্যান্স অডিট থেকে জানা যাচ্ছে, যে টাকা পুরসভাগুলি পরিষেবায় খরচ করে এবং অনুদান পেয়ে থাকে, সেটির ৫৩ থেকে ৬৪ শতাংশ উশুল করতে সক্ষম হয়। প্রপার্টি ট্যাক্সের মধ্যেই ওয়াটার ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু সেটি পর্যাপ্ত নয়। তাই কমিশন মনে করছে পৃথক জল বিল চালু করতে হবে। অথবা সম্পত্তি কর বূদ্ধি করা হোক। দেশের অসংখ্য পুরসভায় জল চুরি হয়। অর্থাৎ বরাদ্দের অতিরিক্ত জল টেনে নেওয়া হয়। যা বেআইনি। এই নজরদারিও করতে হবে পুরসভাকে। চালু করতে হবে জরিমানা। যতক্ষণ না পর্যন্ত জল ও নিকাশি ট্যাক্স চালু করা যাবে, ততক্ষণ একদিকে যেমন অপচয় এবং উদাসীনতা দূর হবে না, তেমনই পুরসভাগুলি আর্থিকভাবে রক্তাল্পতায় ভুগতে থাকবে। ষোড়শ কমিশনের রিপোর্ট ও সুপারিশ মেনে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই শর্ত আরোপ করতে চলেছে, যারা সংস্কারমুখী কর্মসূচি না নেবে, তারা কমিশনের গ্র্যান্টস ইন এইডের অতিরিক্ত বরাদ্দ পাবে না।