বাংলার স্বপ্ন কি ছাড়ল বিজেপি, বাজেট দেখে প্রশ্ন এনডিএর
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এক বছর আগেও বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশ পেয়েছিল বিরাট বরাদ্দ। এই দুই রাজ্যের শাসক দলের সমর্থনেই মোদি সরকার কেন্দ্রে টিকে আছে বলেই তাদের তুষ্ট রাখা প্রয়োজন ছিল। তাই বাজেটে দেওয়া হয়েছিল প্রভূত উপহার। যেভাবে বিজেপি বাংলা দখলের জন্য ঝাঁপাতে চলেছে বলে শোরগোল উঠেছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রায় বেঙ্গল প্যাকেজ পাওয়া যাবে বলে জাতীয় স্তরের সব দলই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু বাংলার জন্য নির্মলা সীতারামনের বাজেটে কিছুই সেভাবে না থাকায় শুধু বঙ্গবাসীই নয়,জাতীয় রাজনীতিও যথেষ্ট বিস্মিত। সংসদ ভবনে বিজেপি ও এনডিএ জোট শরিকদের এমপিদের মধ্যেও পাওয়া গিয়েছে সেই বিস্ময়ের প্রতিফলন। চাপা জল্পনা ও চর্চা চলেছে যে, বাংলা যেখানে এবার আসন্ন ভোটে দখল করা হয়েই গিয়েছে বলে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উচ্চকিত দাবি করছে, সেখানে ঠিক বিপরীত আচরণ বাজেটে কেন? বাংলার তুলনায় কেরল, তামিলনাড়ুর প্রাপ্তি বেশি। বিজেপির মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি তাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কোনও আগাম সমীক্ষায় বার্তা পেয়েছেন যে, এবারও বাংলা থেকে শূন্য হাতেই ফিরতে হবে? নচেৎ এবারও বাজেটে এই ধরার কোনো অর্থই খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। বিশেষ করে এক বছর আগেই যেখানে ভোটের দিকে তাকিয়ে বিহারকে বিপুল উপহার দেওয়া হয়েছিল। অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত রেয়ার আর্থ খনিজ করিডর প্রকল্পে পাশের রাজ্য ওড়িশা ও কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ থাকলেও বাংলার নাম নেই। কেমিক্যাল হাব নির্মাণ করা হবে। বাংলা নেই। জাহাজ সংস্কার প্রকল্পে পাটনা ও বারাণসী আছে। অথচ হলদিয়া নেই। এই সংশয় ও জল্পনার মধ্যেই জানা যাচ্ছে, কেরলই এবার বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রধান টার্গেট। কেরলে তুলনামূলকভাবে ভালো করতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। কিন্তু বাংলার জন্য যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সেটি থেকেই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে যে, বাংলার আশা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই সংশয় ও নিরাশায় যাতে বঙ্গ বিজেপির মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে সোমবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিবৃতি দিয়েছেন। বলেছেন, বাংলার জন্য বাজেটে যথেষ্ট বরাদ্দ হয়েছে। হতাশ হওয়ার মতো কিছু হয়নি। তৃণমূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাজেট নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তিনি বলেছেন, বাজেটের ইতিবাচক দিক নিয়ে প্রচার করা হবে বাংলায়।