• জ্ঞানেশ বিজেপির দালাল: মমতা
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘নিজেকে কী মনে করেন? জমিদার? আর আমরা চাকরবাকর?’ তোপ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পালটা জ্ঞানেশ কুমারের মন্তব্য, ‘যদি আমাকে অবিশ্বাস করেন, তাহলে আপনার কোনো কথা শুনব না!’ উত্তপ্ত কথোপকথনে সোমবার কার্যত সম্মুখ সমরে পরিণত হল অশোক রোডে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর। একদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কমিশনের ছয় আধিকারিক। অন্যদিকে এসআইআরে ভুক্তভোগী ১২ জন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে স্বয়ং মমতা। তবে সওয়া ঘণ্টা যেতে না যেতেই আলোচনার মাঝপথে তিনি বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন। উগরে দেন নিজের ক্ষোভ। জ্ঞানেশ কুমারকে শুনিয়ে বলেন, ‘আপনারও জগদীপ ধনকারের মতো অবস্থা হবে!’ এরপরই বাছা বাছা বিশেষণে তিনি আক্রমণ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। বলেন, ‘বহু নির্বাচন কমিশনার দেখেছি। কুরেশি, টি এন সেশন...। কিন্তু এমন তোতাপাখি দেখিনি। হিজ মাস্টার্স ভয়েস দেখিনি। হি ইজ আ গ্রেট লায়ার (উনি চরম মিথ্যাবাদী)! আসলে জ্ঞানেশ কুমার বিজেপির কথায় কাজ করছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নয়। উনি বিজেপির দালাল, দালাল, দালাল। তবে আমরাও ময়দানে লড়ে নেব। ভোট বয়কট করব না!’এসআইআরের নামে পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট অনৈতিক কাজ করছে কমিশন—এমনই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। কমিশনের কাজের প্রতিবাদে কালো সোয়েটার, কালো শাল পরে এদিন তিনি যান জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতে। সঙ্গীদেরও পরনে কালো শাল। আর এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলের কৌতুহল ছিল তুঙ্গে। গোটা এলাকা পুলিশ আর র‌্যাফে ছয়লাপ। বৈঠকের শুরুতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া হয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের সই করা ছ’পাতার এক স্মারকলিপিও। তবে ওই বক্তব্য মানতে নারাজ জ্ঞানেশ কুমার। তাই আলোচনার মধ্যেই শুরু হয় কথা কাটাকাটি। শেষপর্যন্ত বৈঠক ছেড়ে সদলবলে বেরিয়ে এসে কমিশনের সদর দপ্তরের সামনেই ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। বলেন, ‘নিজেকে কী মনে করেন জ্ঞানেশ কুমার? এত কীসের অ্যাটিটিউড? বাংলায় এসআইআরে ইচ্ছাকৃত গোলমাল হচ্ছে, সেটাই বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি তো কথাই শুনছেন না। উলটে অপমান করছেন। বলছেন, আমরা নাকি সব মিথ্যে বলছি।’ জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতার হুংকার, ‘আপনার কাছে বিজেপির শক্তি আছে তো আমাদের কাছে আছে জনতার শক্তি। কতদিন বিজেপি ক্ষমতায় থাকে দেখব!’যদিও কমিশনের তরফে মমতার অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি। জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল বঙ্গের এসআইআর নিয়ে এদিন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। সঙ্গে এও জানিয়েছেন, আইনের শাসন বজায় থাকবে। তৃণমূলের এক বিধায়কের হুমকি, ইআরও অফিস ভাঙচুরের প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে সেই বিবৃতিতে। এছাড়া বিএলওদের সাম্মানিকের টাকা আটকে রাখা, ইআরওদের বদলি ইত্যাদি বিষয় নিয়েও রাজ্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে কমিশন।
  • Link to this news (বর্তমান)