• মমতাকে ঠেকাতে শাহের পুলিশ! বঙ্গ ভবনে হানা, দিল্লির রাজপথে রণংদেহি অগ্নিকন্যা
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি এসেছেন! সঙ্গে এসআইআরে ভোগান্তির শিকার হওয়া বাংলার শতাধিক ভোটার। দেখা করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে। একথা শুনেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে আটকাতে রাজধানীর বঙ্গ ভবনে হানা দিল ‘অমিত শাহে’র পুলিশ। ঘিরে ফেলা হল গোটা চত্বর। আর সেই খবর কানে আসামাত্র দিল্লির রাজপথে নেমে রণংদেহি মেজাজে গর্জে উঠলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। তৃণমূলের তরফেও জানানো হল তীব্র প্রতিবাদ। উত্তাল হল রাজধানীর রাস্তা থেকে সংসদের অন্দর। প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী—‘এভাবে আমাকে আটকাতে পারবেন না!’ লোকসভায় ওয়েলে নেমে মোদি-শাহের একেবারে মুখের সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর আবু তাহের খান ভয়ডরহীন গলায় তুললেন স্লোগান... ‘ধিক্কার, ধিক্কার। অমিত শাহ ধিক্কার!’ ওয়েলের অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, সাজদা আহমেদরা জোরালো করলেন বিক্ষোভ। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিও। বিজেপিও পালটা তাঁদের আটকানোর চেষ্টা চালাল। সব মিলিয়ে সোমবার রাজধানীতে উত্তপ্ত হল পরিবেশ।সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই বঙ্গ ভবনের বাইরে অল্প অল্প করে জড়ো হচ্ছিল দিল্লির খাকি উর্দিধারীরা। তৃণমূল যাদের অমিত শাহের পুলিশ বলে উল্লেখ করেছে। কারণ, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রাজধানীর পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরই অধীন। বেলা বাড়তে না বাড়তে তারা কার্যত নজরবন্দি করে ফেলে বাংলা থেকে আসা এসআইআর-ভুক্তভোগীদের। দিল্লি পুলিশের এই অতিসক্রিয়তার খবর পেয়ে সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী। পরনে ঘরে পরার শাড়ি, গায়ে শুধু আলগোছে একটা চাদর জড়ানো। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।প্রথমে চাণক্যপুরিতে উমাশঙ্কর দীক্ষিত মার্গের সরকারি অতিথিশালা, পরে হেলি রোডের বঙ্গ ভবনে আসেন মমতা। ততক্ষণে খবর পেয়েছেন দক্ষিণ দিল্লির কৈলাস কলোনিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজ্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন আর বিদ্যুৎ সরবরাহ নিগমের দুই অতিথিশালাও ঘিরে ফেলেছে দিল্লি পুলিশের কয়েকশো অফিসার-কনস্টেবল। দেরি না করে মমতা সেখানকার পরিস্থিতি বুঝতে পাঠান কাকলি ঘোষদস্তিদারকে। বঙ্গ ভবনে পুলিশ বাইরে থাকলেও দক্ষিণ দিল্লির দুই অতিথিশালার অন্দরে তারা ঢুকে গিয়েছিল বলেই তৃণমূলের অভিযোগ। বাইরে থেকে গেটে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল তালা। যদিও কাকলিদেবী সেই তালা খুলিয়ে ভিতরে ঢোকেন।দিল্লি পুলিশের এই আচরণে দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তো শুধু এসআইআরের খসড়া তালিকায় নাম কেটে যাওয়া ভোটার এবং মৃত বিএলও’র পরিজনকে নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। কোনো ধরনা বা বিক্ষোভের পরিকল্পনা নেই। তা সত্ত্বেও কেন এভাবে গরিব মানুষগুলোকে নজরবন্দি করে রাখা? কেন ঘিরে ফেলবে বঙ্গ ভবন? প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, ‘এত কীসের ভয় আমাকে?’রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যেরই অতিথিশালা। অথচ সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকেই ঢুকতে বাধা দেয় দিল্লি পুলিস। পরে অবশ্য গার্ডরেল সরিয়ে তিনি প্রবেশ করেন। পুলিশের উদ্দেশে রণংদেহি মমতা বলেন, ‘আপনাদের বাড়িতেও মা-বোন আছে। যাঁরা এসেছেন, এসআইআরে তাঁদের পরিবারের লোকজন প্রাণ হারিয়েছেন। আর দুঃখভারে জর্জরিত সেই মানুষগুলোকে আপনারা আটকে রাখতে চাইছেন।’ এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি— ‘যদিও জানি আপনারা নির্দেশের দাস। ‘উপর’ থেকে যেমন নির্দেশ এসেছে করছেন। কিন্তু তাও বলছি, এভাবে আমাকে আটকাতে পারবেন না! আমি লড়ে নেব।’মমতাকে দেখেই যেন ধড়ে প্রাণ আসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা এসআইআর-ভুক্তভোগীদের। ‘দিদি’কে জানালেন, কীভাবে আটকে রেখেছে পুলিশ! তাঁদের অভয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘কেউ কিছু করতে পারবে না। এটা রা঩জ্য সরকারের এলাকা। এখানে পুলিশ ঢুকতে দেব না। আর ঢুকলেও ভয় পাবেন না। না। আমি আছি। দেখি কার কত হিম্মত!’ সন্ধ্যাতেই জানা যায়, বঙ্গ ভবনের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে রাজ্য পুলিশের ২২ জনের টিম। নেতৃত্বে থাকবেন একজন ডিএসপি ও একজন ইনস্পেক্টর। ভোররাতেই তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)