চোরাপথে বাংলাদেশে যাওয়ার সময় সুপারির কৌটা কাছে রাখতে চাওয়াই কাল হল হেনার
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, দিনহাটা: চোরাপথে বাংলাদেশে ফেরার সময় সুপারির কৌটা নিজের কাছে রাখতে চাওয়াই কাল হল হেনা বেগমের। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দালালদের সঙ্গে সে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার জেরেই আরও ৬০ হাজার টাকা দাবি করে দালালচক্র। দালালদের অত্যাচার ও ভয়ভীতির মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করে হেনা বেগম সহ তিন বাংলাদেশি মহিলা। সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে হেনা বেগম তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। বেঙ্গালুরুতে ভাড়াবাড়িতে থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করত এবং মহিলারা বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করত।সুপারি পান খাওয়ার অভ্যাস ছিল হেনা বেগমের। বাংলাদেশের নির্বাচন শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে বাড়ি ফেরার তাগিদে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা।পরিকল্পনা অনুযায়ী হেনা বেগম সহ মোট ছ’জন দিনহাটার সাহেবগঞ্জ এলাকায় দালালের বাড়িতে এসে হাজির হয়। দালালকে ৯০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। প্রথমে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বাংলাদেশে পার করে দেওয়া হয়। পরে মহিলা সদস্যদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। ওই সময় দালালরা জানায় খালি হাতে পার হতে হবে। কিন্তু নিজের সুপারির কৌটা সঙ্গে রাখার বিষয়ে অনড় থাকেন হেনা বেগম। এতে দালালরা রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।রাতের বেলা জোরে কথাবার্তায় আশপাশের লোকজন সজাগ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই মুহূর্তে তাদের চুপ থাকতে বলা হয়। পরদিন সকালে দালালরা অতিরিক্ত ৬০ হাজার টাকা দাবি করে এবং পুলিসের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে দালালদের হাত থেকে বাঁচতেই বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।হেনা বেগমের দাবি, পারাপারের সময় সুপারির কৌটা সঙ্গে নিতে চেয়েছিলাম। দালালরা তাতে রাজি হয়নি। আমাদের জামাকাপড় আর ব্যাগপত্র মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। রাতে তার প্রতিবাদ করি। সকালে আরও ৬০ হাজার টাকা দাবি করে এবং পুলিসে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। বাধ্য হয়ে বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করি।দিনহাটা মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী মৃগাঙ্ক সেনগুপ্ত জানান, এক নাবালিকা সহ তিন বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পারাপারে সহযোগিতার অভিযোগে দুই ভারতীয় দালালের বিরুদ্ধে বিএসএফের তরফে মামলা রুজু করা হয়েছে।