নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এসআইআরের পর কেন্দ্রীয় বাজেট। সংশ্লিষ্ট দু’টি ইস্যুকে হাতিয়ার করে উত্তরবঙ্গজুড়ে তেড়েফুঁড়ে নামছে জোড়াফুল শিবির। এবার তাদের কর্মসূচি ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’। তারা বুথে বুথে সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্র দেখিয়ে ভোটারদের নিয়ে ‘অভেদ্য দেওয়াল’ তৈরির ছক কষেছে। এর মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে পদ্ম শিবির। এখন তারা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছে। সেই সঙ্গে লালপার্টির ভোট ব্যাংক কব্জার পরিকল্পনা করেছে। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি সরগরম।রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটার কথা বলে এসআইআর নিয়ে প্রথমে গলা ফাটায় বিজেপি। এখন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ভোটার তালিকায় রহিঙ্গা বা বাংলাদেশির হদিশ মেলেনি। কিন্তু এসআইআরের হয়রানি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সর্বত্র। এমন প্রেক্ষাপটে রবিবার বাজেট পেশ করে কেন্দ্র সরকার। তাতেও উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল কোথাও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন শিল্প কোনও খাতেই এখানকার জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা নেই।বিধানসভা ভোটের ময়দানে সংশ্লিষ্ট দু’টি ইস্যুকে হাতিয়ার করে গা ঘামানোয় আরও জোর দিচ্ছে তৃণমূল। এতদিন তারা উন্নয়নের পাঁচালি, সংলাপ নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। সর্বত্র ট্যাবলো বের করা হয়েছে। এবার তাদের কর্মসূচি ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’। তারা ল্যাপটপ, জায়ান্ট স্ক্রিন নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্র লোকজনকে দেখাচ্ছে।তৃণমূল শাসিত মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রেখা মল্লিক সোমবার বলেন, উন্নয়নের পাঁচালি, সংলাপ নিয়ে জনসংযোগ চলছে। সেই সঙ্গে কাওয়াখালি বাজারে ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ তথ্যচিত্র দেখিয়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। গ্রামের প্রতিটি হাটে ও বাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। ওই তথ্যচিত্র দেখানোর পাশাপাশি হতাশাজনক কেন্দ্রীয় বাজেট ও এসআইআরের হয়রানির কথাও গ্রামে তুলে ধরছি আমরা।প্রসঙ্গত, বাজেট পেশের একদিন আগে শনিবার বাগডোগরায় দলীয় কার্যকর্তা সম্মেলনে অতীতের বিভিন্ন ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রতিটি বুথে মাত্র ৩০টি করে ভোট বৃদ্ধির নিদান দিয়ে যান কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি এজন্য কার্যকর্তাদের বুথে নতুন করে পাঁচ থেকে ছ’টি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গাড়ার পারামর্শ দিয়েছেন।এর বিরুদ্ধে বুথে বুথে ভোটারদের নিয়ে অভেদ্য দেওয়াল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল। দলের দার্জিলিং জেলার বিএলএ-১ (সমতল) পাপিয়া ঘোষ বলেন, ওসব অংক কষে লাভ নেই। কারণ এসআইআর ও বাজেট ফ্লপ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক প্রকল্প এখন ঘরে ঘরে। কাজেই আমাদের দেওয়াল ওরা ভেদ করতেই পারবে না।মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির আনন্দময় বর্মন অবশ্য বলেন, এসআইআর নিয়ে ষড়যন্ত্র ও বাজেট নিয়ে অপপ্রচার করছে তৃণমূল। এতে লাভ হবে না। ওদের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। যদিও পদ্ম শিবিরের আরএক অংশের বক্তব্য, এবার এসআইআর ও বাজেটই তাদের চাপে ফেলে দিল।