• বক্সার জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলবে ট্রেন, ঘোষণায় বিতর্ক, রেলের একতরফা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বনমন্ত্রী বীরবাহা
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বক্সার জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ট্রেন চালানোর ঘোষণায় বিতর্ক চরমে। রাজ্যের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই রেলের এ হেন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী পর্যন্ত জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ট্রেন চালানোর উদ্যোগে খুশি নন পরিবেশপ্রেমীরাও। তাঁদের বক্তব্য, বক্সার জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। ট্র্যাপ ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়েছে সেই ছবি। এছাড়া হাতি-গন্ডার, বাইসন, হরিণ সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী তো আছেই। ফলে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভিতর দিয়ে ট্রেন চালালে পরিবেশের পাশাপাশি সংকটের মুখে পড়বে বন্যপ্রাণীরা। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে তাদের।সোমবার রাতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী পর্যন্ত রেলপথ বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫.১৩ কিমি দূরত্বের ওই পথে রেললাইন বসাতে ১৮০ কোটি টাকা খরচ হবে। তাঁর দাবি, মূলত পর্যটনের প্রসারে এই রেলপথ নির্মাণের কথা ভাবা হয়েছে।যদিও এনিয়ে রেলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। তিনি বলেন, বক্সায় বাঘ রয়েছে। সেখানে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কেন বুঝতে পারছি না। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তরের সঙ্গে রেলকর্তারা কোনওরকম আলোচনাও করেননি। এমন ভাবনাচিন্তা অযৌক্তিক। রেলকে বিঁধে বনমন্ত্রীর আক্রমণ, যেখানে দরকার সেখানে ট্রেন চালানো হচ্ছে না। রেলের পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। এসব দিকে মন না দিয়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার বক্তব্য, এর আগে তো শুনেছিলাম বক্সায় বাঘ নেই। এখন আবার বলা হচ্ছে, সেখানে বাঘ আছে। রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী পর্যন্ত আগে রেলপথ ছিল। ওই পথেই নতুন করে ট্রেন চালানোর জন্য অনুমোদন দিয়েছে রেল। এখন বন ও পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র পেলে ওই কাজ এগবে। না হলে হবে না।একসময় ডলোমাইট ও কাঠ সংগ্রহের জন্য রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী পর্যন্ত ট্রেন চলত। কিন্তু ১৯৮৩ সালে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প মান্যতা পাওয়ার পর ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্যপ্রাণের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বক্সা থেকে ইতিমধ্যেই দু’টি বনবস্তি সরানো হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দিয়েছে রাজ্য। এখন জনশূন্য ওই পথে নতুন করে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে, এতে বন্যপ্রাণীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে তো?রেলের অবশ্য দাবি, পরিবেশের উপর যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ওই পথে ট্রেন চালানোর কথা ভাবা হয়েছে। এতে পর্যটনের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনীতির যথেষ্ট উন্নয়ন হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)