• ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইনে ফোন, সাবড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা পাচ্ছেন পাকা বাড়ি
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বেলদা: দীর্ঘ এক দশকের বঞ্চনা। মাথার উপর ছাদ না থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল গ্রামবাসীদের। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘লাল ফিতের’ ফাঁসে আটকে ছিল আবাসের স্বপ্ন। কিন্তু হতাশাই শেষ কথা নয়। একটা ফোনেই বদলে গেল ছবিটা। রাজ্যের অভিনব উদ্যোগ ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কর্মসূচিতে ফোন করে অভিযোগ জানাতেই মিলল সমাধান। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জটিলতা কাটিয়ে এবার রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে পাকা ছাদ পেতে চলেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ ব্লকের সাবড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই খবরে খুশির হাওয়া সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায়।প্রশাসন সূত্রে খবর, সাবড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ৩৬০টি বাড়ির অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সাবড়া গ্রামেই তৈরি হবে ২০০টি বাড়ি। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, উপভোক্তাদের তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০১৬ সালে দাঁতন বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে আসার পর থেকে এলাকার ভোলবদল শুরু হয়। দাঁতন ২ ব্লকে রাস্তাঘাট, পানীয় জল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা— উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছিল সর্বত্রই। কিন্তু সাবড়া পঞ্চায়েতের দরিদ্র মানুষরা এতদিন পাকা বাড়ি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের আবাস যোজনার বিবিধ জটিলতা এবং রাজনৈতিক জাঁতাকলে আটকে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের হকের টাকা। উপায় না দেখে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্প লাইনে ফোন করেন। আর তাতেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়।দাঁতন ২ ব্লকের বিডিও অভিরূপ ভট্টাচার্য জানান, উপভোক্তারা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে বাড়ির আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক রাজ্য থেকে অনুমোদন এসেছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য সমীক্ষায় সামান্য সময় লাগছে। আশা করছি, এক মাসের মধ্যে ফিল্ড ভেরিফিকেশন শেষ হলেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকে যাবে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা বিবি, শুকদেব দাসের মতো মানুষরা। তাঁদের কথায়, ঝড়বৃষ্টিতে মাটির ঘর ভেঙে গিয়েছিল। পাকা বাড়ি বানানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ঘর না পেয়ে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। শেষমেশ দিদির কাছে ফোন করতেই ঘর পেলাম। আমরা দারুণ খুশি।বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধতে ছাড়েননি দাঁতন ২ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ শেখ ইফতেখার আলি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা আটকে গরিব মানুষকে ভাতে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তা হতে দেননি। তিনি রাজ্যের টাকাতেই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে অসহায় মানুষের ছাদ তৈরি করে দিচ্ছেন। মানুষ এই বঞ্চনার জবাব সঠিক সময়েই দেবে।’ সব মিলিয়ে, এক দশকের অন্ধকার কাটিয়ে এখন পাকা ছাদের স্বপ্ন দেখছে সাবড়া।
  • Link to this news (বর্তমান)