• পরীক্ষার্থী পিয়ালির বাড়ির সংযোগ জুড়ল বিদ্যুৎদপ্তর
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পিয়ালির বাড়িতে জ্বলল আলো। সোমবার বিকেলে গোঘাটের সাওড়ার বাসিন্দা পিয়ালি মণ্ডলের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। তাতে খুশি পিয়ালির পরিবার সহ প্রতিবেশীরা। 'বর্তমান' পত্রিকার খবরের জেরে বিদ্যুৎ দপ্তর এদিন সংযোগ দেয়। এদিন পিয়ালি পরীক্ষাতেও বসে। বালি হাই স্কুলে তার সিট পড়ে। অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সে এদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে। বাংলা পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা শুরুর আগে গোঘাটের ওসি মধুসূদন পাল তার সঙ্গে দেখা করে গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পুলিশ তার পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে। পিয়ালি বলে, পরীক্ষায় বসার কোনও আশা ছিল না। কিন্তু পুলিশ সাহায্য করায় তা সম্ভব হয়েছে। এদিন পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। সন্ধ্যায় বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহও চলে আসে। ফলে স্বস্তি ফিরেছে।বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার আরামবাগের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনিরুদ্ধ মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি জানার পরই আমরা তৎপর হই। ফলে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাড়িতে আধিকারিকদের পাঠিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সে যাতে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে পারে, তারজন্য মানবিক কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ক্ষেত্রে কোনও পরিবারে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রয়েছে কি না, তার খোঁজ নিয়ে সংযোগ কাটতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটানোর জন্য পরিবারকে সময় দেওয়া হবে।পিয়ালি জানায়, গত তিন-চার মাস আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দপ্তরের লোকরা। বাবা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটাতে না পারায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। পরে বাবা একটি বৈদ্যুতিক চার্জার কিনে আনে। সেটি প্রতিবেশীর বাড়িতে বিদ্যুতের সাহায্যে চার্জ করা হতো। তারপর তা বাড়িতে জ্বলত।পিয়ালির প্রতিবেশী সন্দীপ দাস বলেন, এদিন সন্ধ্যার পর বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখা গিয়েছে। আমরা চাই পিয়ালি ভালো করে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিক। তার পরীক্ষায় বসতে সুষ্ঠু ব্যবস্থা করার জন্য প্রত্যেককে ধন্যবাদও জানাচ্ছি।উল্লেখ্য, পিয়ালির মা রেখা মণ্ডল আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছে। বাড়িতে আর কোনো মহিলা নেই বলে মায়ের কাছেই থাকতে হয়েছিল পিয়ালিকে। পরীক্ষা বসতে পারা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে রবিবার বিকেলে খবর পেয়ে আরামবাগের এসডিপিও তৎপর হন। মায়ের কাছে আয়া মোতায়েন করে গাড়িতে করে পিয়ালিকে বাড়ি পৌঁছনো হয়। অবশেষে এদিন সে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে যায়। সেই খবর সোমবার প্রকাশিত হয় 'বর্তমান' পত্রিকায়। 
  • Link to this news (বর্তমান)