ভগৎ সিং স্টেডিয়ামের ক্রিকেট পরিকাঠামো গড়বে সিএবি: সৌরভ
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘রাঁচির মতো শহর থেকে মহেন্দ্র সিংহ ধোনী ভারতের ক্যাপ্টেন হতে পারলে, তোমরা কেন পারবে না। মনে রাখবে খেলায় একবার সফল হলে যে খ্যাতি পাবে তা অন্য কেউ দিতে পারবে না’। রবিবার দুর্গাপুরে এসে নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের উৎসাহিত করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু উৎসাহিত করেই দায় সারেননি সিএবি সভাপতি। দুর্গাপুরের ভগৎ সিং স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমি সিএবি সভাপতি হিসাবে বলে যাচ্ছি, ক্রিকেট পরিকাঠামো গড়ে দেওয়ার দায়িত্ব সিএবির। কোন অর্থ লাগবে না, সিএবি খরচা করে এখানে প্যাকটিস উইকেট(পিচ), ম্যাচ উইকেট, ড্রেসিং রুম গড়ে দেবে। ছেলের পাশাপাশি মেয়েদেরও সুযোগ দেওয়া হবে। তোমরা ভালো করে খেল। উত্তরপ্রদেশের এক জেলা সদর থেকে কুলদীপ যাদবও দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। তোমরাও পারবে।সৌরভের এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাসিত দুর্গাপুরের ক্রীড়াপ্রেমী ও খেলাধুলোর সাথে যুক্ত মানুষজন। দুর্গাপুরকে সংস্কৃতির শহর বলা হয়। কলকাতার পরেই নানা সংস্কৃতিক চর্চার বিষয়ে দুর্গাপুরের নাম উঠে আসত। আধুনিক শহর দুর্গাপুরের মানুষের খেলাধুলোর প্রতিও উন্মাদনা রয়েছে। মোহনবাগান ফ্যান ক্লাব, ইস্টবেঙ্গল ফ্যান ক্লাব রয়েছে। একটা সময়ে মোহনবাগান ক্লাব সেইলের সঙ্গে চুক্তি করে এখানে ফুটবল একাদেমীও গড়ে তুলেছিল। দুর্গাপুর শহর জুড়ে প্রায় ১৫টি বেশি একাদেমী রয়েছে। ছেলেদের পাশাপাশি বহু মেয়ের বাবা, মায়েরাও সন্তানকে ভালো ক্রিকেটার হিসাবে দেখতে চান। বিশেষ করে ভারতীয় মহিলা দল বিশ্বকাপ জেতার পর সেই উৎসাহ আরও বেড়েছে। ঠিক এই সময়ে সিএবি সভাপতির এই ঘোষণায় খুশি শহরবাসী। দুর্গাপুরের ক্রিকেট কোচ শিবনাথ রায় বলেন, দুর্গাপুরের অভিভাবকরা চায় সন্তানদের ভালো ক্রিকেটার করে তুলতে। অনেকক্ষেত্রেই পরিকাঠামোর অভাব সমস্যা সৃষ্টি করে। সিএবি সেই পরিকাঠামো গড়ে তুললে, এখানে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আয়োজন করা হলে দুর্গাপুর থেকে ভালো ক্রিকেটার আমরা পাব।মোহনবাগান ফ্যান ক্লাবের সদস্য সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এটা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। খেলাধুলোর সাথে যুক্ত যেসব সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে আমরা প্রয়োজনে সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব। ক্রিকেটের উন্নত পরিকাঠামো গড়ে উঠলে। ফুটবলেও পরিকাঠামো গড়ে উঠবে। দুর্গাপুরের ভেটারেন স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনন্দময় ঘোষ বলেন, ভগৎ সিং স্টেডিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছিল আন্তজার্তিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের জন্যই। সৌরভের হাত ধরে ক্রিকেটের উন্নত প্রশিক্ষণ, ম্যাচের আয়োজন হলে দুর্গাপুরবাসীর স্বপ্ন পূরণ হবে। ইস্টবেঙ্গল ফ্যান ক্লাবের সম্পাদক ললিত কুমার দাস বলেন, আমরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। আমাদের অনুরোধ, ভগৎ সিং স্টেডিয়াম শুরু ক্রিকেট খেলার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলে ফুটবলের জন্যও যেন বিকল্প মাঠের ব্যবস্থা হয়। দুর্গাপুর পুরসভার অধীনে রয়েছে ভগৎ সিং স্টেডিয়াম। সাম্প্রতিকালে এডিডিএ ও দুর্গাপুর পুরসভা ওই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছে। মাঠটি নতুন রূপে সেজে উঠেছে। দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুরের প্রতিটি বাসিন্দার কাছে এটি অত্যন্ত সুখবর। সিএবিকে সব রকম সহযোগীতা করবে দুর্গাপুর পুরসভা।