মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাড়িতে ফেলে যাওয়া সার্টিফিকেট পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিল স্কুল
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিশেষভাবে সক্ষম এক পরীক্ষার্থী সার্টিফিকেট আনতে ভুলে যাওয়ায় স্কুল থেকে ৪কিলোমিটার দূরে পরীক্ষা কেন্দ্রে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলেন তালডাংরার সাতমৌলি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান অন্তু মণ্ডল। সোমবার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন ছিল। তালডাংরা থানার অন্তর্গত মাণ্ডি গ্রামের বাসিন্দা অমর মাঝি নামে এক বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থী রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। সে স্থানীয় নাচনকোন্দা হাইস্কুলের ছাত্রী। তার পরীক্ষার সিট পড়েছে সাবড়াকোন হাইস্কুলে। পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার পর প্রতিবন্ধকতার সার্টিফিকেট না থাকায় রাইটারদেরকে কেন্দ্রে বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান অন্তু মণ্ডল সঙ্গে সঙ্গে ওই ছাত্রের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ফোন করেন। তারপর দ্রুততার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবন্ধকতার সার্টিফিকেট কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। রাইটার নিয়ে সে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেয়।প্রধান বলেন, আমাদের পঞ্চায়েত এলাকার বিশেষভাবে সক্ষম এক ছাত্র সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিল। ছাত্রের বাড়ির লোকেরা ভীষণ চিন্তায় পড়ে আমাকে জানান। পরীক্ষা দিতে যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয় সেজন্য বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্টিফিকেট কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।নাচনকোন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্দিপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অমর মাঝি নামে আমাদের বিদ্যালয়ে অমর মাঝি নামে এক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী রয়েছে। কেন্দ্রে প্রতিবন্ধি শংসাপত্র নিয়ে না যাওয়ায় রাইটার নিয়ে সমস্যা হয়। তা জানার পরেই আমাদের বিদ্যালয়ের এক সহ শিক্ষককে দিয়ে তড়িঘড়ি সার্টিফিকেট কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।মাণ্ডি গ্রাম থেকে এদিন টোটোয় করে অমরকে সাবড়াকোন হাইস্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন তার মা টুম্পা মাঝি ও দাদু গণেশ মাঝি। তাঁরা বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অমরের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করত। তারপরেই নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে শরীর অবশ হয়ে পড়ে। হাঁটা চলা করতে অসুবিধা হয়। স্কুল যাওয়ায় অনিয়মিত হয়ে পড়ে। লিখতেও পারে না। কিন্তু সে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি জানানোর পর তাঁরা রাইটারের ব্যবস্থা করে দেন।এদিন পরীক্ষা শেষে অমর জানায়, শারীরিক কষ্ট সত্বেও যতটা সম্ভব পড়াশুনা করেছি। হাত অবশ থাকায় নিজে লিখতে পারিনি। আমার রাইটার পরীক্ষা দিয়েছে। আমি মাধ্যমিক পাশ করে আরও পড়তে চাই।