• পরীক্ষার্থীদের উপহার বিলিতে সৌজন্য, বেলা গড়াতেই শিল্পাঞ্চলে বাক্‌যু঩দ্ধে তৃণমূল-বিজেপি
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজনৈতিক সৌজন্যতার নজির গড়ল যুযুধান তৃণমূল ও বিজেপি। সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব নিয়ে দু’পক্ষই জল ও গোলাপ তুলে দেয় পরীক্ষার্থীদের হাতে। এই ছবি অবশ্য ছিল ক্ষণস্থায়ী। পরক্ষণেই বাক্‌যু঩দ্ধে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের জেলা নেতা সৈয়দ মহফুজুল হাসান ও বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। বেলা বাড়তেই অগ্নিমিত্রা চলে যান রানিগঞ্জের নিমচায়। সেখানে ‘পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই’ কর্মসূচি ছিল বিজেপির। তাতে যোগ দিয়ে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েন বিজেপি বিধায়ক। শুনতে হয় ‘গো-ব্যাক অগ্নিমিত্রা’ স্লোগানও।  সবমিলিয়ে এদিনের শিল্পাঞ্চল দেখল শাসক ও বিরোধীদলের নরম-গরম রাজনীতি।সোমবার ছিল মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা। বার্নপুর গুরুদ্বার স্কুলের সামনে হাজির হয়ে দু’টি দল। একপাশে অগ্নিমিত্রার নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। অন্যপাশে তৃণমূলের শিল্পাঞ্চলীয় নেতারা। পরীক্ষার্থীদের হাতে তৃণমূলের তরফে তুলে দেওয়া হয় জলের বোতল। অগ্নিমিত্রা তুলে দেন গোলাপ ফুল। দু’দলের উপহার নিয়েই হাসতে হাসতে পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। এই উপহার প্রদানেই দু’পক্ষের সহযোগিতার ছবি ধরা পড়ে ক্যামেরায়। পড়ুয়াদের হাতে যত্নের সঙ্গে গোলাপ ধরিয়ে তৃণমূল শিবিরের দিকে যেতে ইশারা করেন অগ্নিমিত্রা। সেই সঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ওখানে গিয়ে জলের বোতলটাও নিয়ে নিও। উল্টো দিকে জল বিতরণকারী তৃণমূল কর্মীরাও অগ্নিমিত্রার কাছ থেকে গোলাপ নিতে পরীক্ষার্থীদের পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন। তবে, পরীক্ষা শুরু হতে না হতেই পাল্টে যায় ছবিটা। স্কুলের সামনে হাজির হন তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের জেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মহফুজুল হাসান। অগ্নিমিত্রাকে নিশানা করে প্রথম তোপটি দাগেন তিনি। বলেন, ‘সাড়ে চার বছর বিধায়ককে এখানকার কেউ দেখতে পাননি। প্রতি বছরই পরীক্ষার সময়ে আমরা পড়ুয়াদের হাতে জল তুলে দিয়ে থাকি। অগ্নিমিত্রাকে আসতে দেখিনি। আমরাই তো পরীক্ষার্থীদের ওঁর কাছে পাঠালাম। ওরা একবার দেখে নিক। আর তো বিজেপি বিধায়কের দেখা পাওয়া যাবে না।’ পাল্টা দিতে ছাড়েননি অগ্নিমিত্রাও। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের একটাই অভিযোগ, আমাকে নাকি দেখা যায় না। সবকিছু নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। আমিই তো প্রথম ওঁদের ক্যাম্পের দিকে পরীক্ষার্থীদের পাঠালাম। সেটা দেখে ওঁরাও সেই কাজ করেছে। এখানেও বিজেপিকে নকল করতে হয়েছে তৃণমূলকে।’এরপরেই ‘পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই কর্মসূচি’তে যোগ দিতে রানিগঞ্জের নিমচা এলাকায় যান অগ্নিমিত্রা। তিনি গ্রামে ঢুকতেই বাসিন্দারা ঘিরে ধরে প্রশ্ন করেন, ‘এলাকার জন্য কী কাজ করেছেন?’ জবাব পাওয়ার আগেই ‘ অগ্নিমিত্রা গো-ব্যাক’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দলীয় কর্মীদের নিয়ে অগ্নিমিত্রা স্লোগান তোলেন, ‘চোর তৃণমূল হায়...হায়।’ কিন্তু, গ্রামবাসীদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় সেই স্লোগান ঢাকা পড়ে যায়। একরকম বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়তে হয় অগ্নিমিত্রাকে। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছেন। আসলে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। এভাবে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’ যদিও রানিগঞ্জ ব্লক তৃণমূল সহ সভাপতি অর্জুন সিং বলেন, ‘নিমচায় প্রতিবাদের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগসূত্র নেই। গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অব্যশ্যই তা ন্যায়সঙ্গত। সত্যিই তো সাড়ে চার বছর নিমচার মানুষ ওঁকে দেখেনি। কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের কাজও করেননি। ২০২১ সালে ভোট চাইতে এসেছিলেন। তারপর এই প্রথম এলেন।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)