• পানীয় জলের পাইপলাইনের মেইন সুইচ নর্দমায় ডোবা, জঙ্গিপুরে রোগের আতঙ্ক
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পানীয় জলের পাইপলাইনের প্রধান ভালভ বা মেইন সুইচটি দীর্ঘদিন ধরে নর্দমার নোংরা ও পচা জলে ডুবে রয়েছে। অপর ভালভটিও আবর্জনায় মজে গিয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঢাকনাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই সুইচ ঘিরেই এখন জঙ্গিপুরে মহামারী বা জলবাহিত রোগের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসনের এই চরম উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জঙ্গিপুরের পিএইচই সুপারভাইজার বলেন, বিষয়টি বাইরে থেকে খারাপ দেখালেও পরিস্রুত পানীয়জলের সঙ্গে নোংরা জল মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাও চেম্বার দু’টি পরিষ্কার করে সেটি ঢেকে দেওয়া হবে।জঙ্গিপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জল সরবরাহের জন্য দু’টি চেম্বার রয়েছে। তার মেইন সুইচ দু’টি রাস্তার ধারের একটি নর্দমার ঠিক মাঝখানে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই চেম্বার পরিষ্কার না করায় এবং ভালভ চেম্বারের ঢাকনা না থাকায় সেটি এখন নর্দমার জলে ভরে গিয়েছে। এনিয়ে জঙ্গিপুরের পিএইচই দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ মণ্ডল বলেন, দু’টির মধ্যে রাইজিং ভালভটি পিএইচই দেখে। ডিস্ট্রিবিউশন ভালভটি পুরসভার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় সুপারভাইজারকে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। পুর কর্তৃপক্ষের নজরেও আনা হবে।জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তার পাশেই দু’টি ভালভ চেম্বার রয়েছে। রাইজিং ভালভের চেম্বারটি আবর্জনা জমে কার্যত মজে গিয়েছে। ফলে ভালভটি দেখাই যায় না। তবে পাশেই ডিস্ট্রিবিউশন ভালভ চেম্বারে জমে রয়েছে নোংরা জল। সেখানেই জমছে আবর্জনা। স্থানীয়দের দাবি, সেটিকে নর্দমা ভেবে অনেকেই সেখানে নোংরা জল, আবর্জনা ফেলে। এমনকী, দিনের আলো কমে আসতেই সেখানে পথচারীরা পান ও গুটকার পিক সহ থুতু ফেলে ও চেম্বারে প্রস্রাব করে। জল ছাড়লে ভালভ ঠেলে জল ওই চেম্বারে জমা হয়। জল সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়ে নর্দমার নোংরা জল লিকেজ দিয়ে পানীয় জলের মূল পাইপে ঢুকতে পারে। নর্দমার পচা জল মিশলে তা পান করে মানুষ অসুস্থ হতে পারেন। দূষিত জল থেকে জলবাহিত রোগ ছড়ানোরও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বারবার পুরসভা এবং পিএইচই বিভাগে জানানো হলেও লাভ হয়নি। ক্ষুব্ধ বাসিন্দা রমেন দাস, রামকমল মণ্ডল ও হাকিম শেখদের ক্ষোভ, আমরা কর দিচ্ছি । অথচ আমাদেরই বিষাক্ত ও দূষিত জল খেতে বাধ্য করা হচ্ছে।  বর্তমানে ভালভ পয়েন্টের চেম্বার দু’'টি খোলা অবস্থায় রয়েছে। যার ফলে ওই পয়েন্টটি আরও বেশি অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সুইচ দু’টিকে নর্দমার নোংরা জল থেকে বের করতে হবে। যথাযথ কংক্রিট চেম্বার তৈরি করে সেটি সুরক্ষিত করতে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)