• পূর্ব মেদিনীপুরে মদ বিক্রির টার্গেট বাড়াল রাজ্য, ১৯৪০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২৩ কোটি
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০২৫-’২৬ আর্থিক বর্ষের শেষ নাগাদ পূর্ব মেদিনীপুরে মদ বিক্রির টার্গেট বাড়িয়ে ২০২৩ কোটি টাকা করল রাজ্য। চলতি আর্থিক বছরের শুরুতে এই জেলাকে ১৯৪০ কোটি টাকার মদ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। গোটা রাজ্যের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। কিন্তু, চলতি সপ্তাহে সেই টার্গেট বাড়িয়ে ২০২৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি অর্থবর্ষে অতিরিক্ত ৮৩ কোটি টাকার মদ বিক্রি করতে হবে পূর্ব মেদিনীপুরের আবগারি বিভাগকে। ইতিমধ্যেই তারা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে এবছর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ১৫৫৫ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। যদিও ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিক্রির টার্গেট ছিল ১৬৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার ৯৫ শতাংশ পূরণ হয়েছে।সাধারণত, ঠান্ডা পড়লে মদের চাহিদা বাড়ে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে, বাংলা মদ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে অনেকেই ফরেন লিকারে ঝুঁকছেন। জানুয়ারি মাসে ৯ লক্ষ ৯১ হাজার লিটার বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে। বিয়ার বিক্রি হয়েছে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার লিটার। সেই তুলনায় বাংলা মদ কম বিক্রি হয়েছে। বাংলা মদ ৬০০ গ্রামের বোতল পিছু ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির পর অনেকেই রুচিতে বদল এসে বাংলা মদ ছেড়ে বিদেশি মদ খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এবছর জানুয়ারি মাসে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ১৭৫ কোটি টাকার মদ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেটা ১৬৬ কোটি টাকা হয়েছে। গত ১০ মাসে ১৫৫৫ কোটি টাকার মদ বিক্রি করে পূর্ব মেদিনীপুর এক নম্বরে আছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা কম বিক্রি করে পশ্চিম বর্ধমান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তবে, বিক্রির টার্গেট অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আবগারি দপ্তর। কারণ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় ফেব্রুয়ারি মাসে মদ বিক্রি কমবে। দীঘায় পর্যটক সংখ্যাও কম থাকবে। তাই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনোর জন্য  নিয়মিত মনিটরিং শুরু হয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে বিক্রি বাড়াতে চোরাপথে মদ বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযানও শক্তপোক্ত করা হচ্ছে। চোলাই মদের রমরমা আটকাতে সর্বশক্তি দিয়ে নেমেছে আবগারি বিভাগ। কয়েকদিন আগে একটি ফুল ভর্তি প্রাইভেট গাড়ি থেকে চোলাই বাজেয়াপ্ত করে আবগারি বিভাগ। এমনকী, বাস থেকেও চোলাই উদ্ধার করা হয়। গাড়ি ও বাস দুটোই আটক করা হয়। গত ১০ মাসে এই জেলায় চোলাই সাপ্লাইয়ের ঘটনায় মোট ২৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন মহিলা। এছাড়া, প্রচুর সাইকেল, বাইক, টোটো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে জেলায় ২৯৩টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান আছে। দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি না করেই রাজস্ব বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। জেলা আবগারি দপ্তরের সুপার মণীশ শর্মা বলেন, আমাদের প্রায় দু’ হাজার কোটি টাকার বিক্রির টার্গেট দেওয়া হয়েছে। এখনও অবধি আমাদের জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশ পূরণ হয়েছে। গোটা রাজ্যে তা ৯৩ শতাংশ অবধি হয়েছে। চোলাই তৈরি ও জোগান রুখে দেওয়ার কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে বিক্রির বেড়েছে। বাংলা মদের চাহিদা কমে বিদেশি মদের চাহিদা বেশ বেড়েছে। ইদানিং আমরা এই প্রবণতা লক্ষ্য করছি।
  • Link to this news (বর্তমান)