• ফরেস্টডাঙা গ্রামে শুরু প্রায় দু’কিমি রাস্তা তৈরির কাজ
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ ব্লকের মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের ফরেস্টডাঙা গ্রামে প্রায় দু’কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হল। গৌরাঙ্গ সেতু সংলগ্ন ফরেস্টডাঙা গ্রামে ঢোকার ঢালুপথ থেকে কালীমন্দির হয়ে সংস্কৃত কলেজ মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল ছিল। ৭০০মিটার ঢালাই রাস্তার দু’দিকে বেশকিছু অংশে মাটি ধসে গিয়েছিল। বাকি ১১০০মিটার রাস্তার অধিকাংশই মাটির ছিল। গত ২৮ নভেম্বর ‘বর্তমানে’ এবিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার জেরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বর্তমানে সেই ৭০০মিটার সংস্কার এবং ১১০০মিটার নতুনভাবে পিচ রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অবশেষে দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় খুশি নবদ্বীপ ব্লকের মাজদিয়া- পানশিলা পঞ্চায়েতের বাঙালপাড়া, মুসলিমপাড়া, গোঁসাইপাড়া, মাহাতপাড়া সহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা।পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, পথশ্রী প্রকল্পে বরাদ্দকৃত প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা খরচে রাস্তাটির কাজ শুরু হয়েছে। এই ১১০০মিটার রাস্তাটি সম্পূর্ণ মাটির ছিল। কিছুদূর অন্তর বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছিল। বৃষ্টির সময় সেই গর্তে জল জমে যেত। এমনকি, রাস্তাটির বেশকিছুটা অংশ ভেঙে ভাগীরথীর গর্ভে চলে গিয়েছে। ফলে, প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সমস্যায় পড়তেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকশো বাসিন্দা। গ্রামের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দিয়ে গ্রামবাসীরা কেউ গৌরাঙ্গ সেতু হয়ে নবদ্বীপের হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, থানা এবং নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে যান। ওইসব গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দারা এই রাস্তা দিয়ে কৃষ্ণনগরে যাতায়াত করেন। মূলত বাঁধের রাস্তা থেকে এই রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল। বর্ষার সময় জল বাড়লে মাটির রাস্তাটি বেশ কয়েকটি গ্রামের বন্যা প্রতিরোধে বাঁধের কাজ করে। দিনের পর দিন এই বাঁধের রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। অথচ বছরের পর বছর সেটি মাটির রাস্তা হয়েই পড়েছিল। গ্রামবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ, একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও কোনও কাজ হচ্ছিল না।ফরেস্টডাঙা মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা আরব আলি মালিতা বলেন, এই রাস্তার কাজ শেষ হলে কম সময়ে নবদ্বীপ ও কৃষ্ণনগরে পৌঁছানো যাবে। এখন বেশকিছুটা ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। গ্রামের ভিতরের পাকা রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ উঁচু-নীচু রয়েছে। জমির ফসল নিয়ে যেতে চাষিদের সমস্যায় পড়তে হয়। ফরেস্টডাঙা চৌধুরীপাড়ার গৃহবধূ সবিতা চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার শ্রীরামপুরে সবজি বিক্রি করতে যাই। কিন্তু এই রাস্তার বেহাল পরিস্থিতির কারণে যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হত। গ্রামে ঢোকার মূল ঢালাই রাস্তার দু’পাশে মাটি ধসে যাওয়ায় বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছিল।স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুরজ চৌধুরী বলেন, রাস্তাটি তৈরি হলে ফরেস্টডাঙা, আনন্দবাস, ঘোলাপাড়া সহ পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের শিল্প ও পরিকাঠামো দপ্তরের সঞ্চালক মিঠুন ঘোষ বলেন, প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা খরচে এই বেহাল রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা পঞ্চায়েতের তরফে দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে জানিয়েছিলাম। 
  • Link to this news (বর্তমান)