সহজ প্রশ্নে স্বস্তির সূচনা, মাধ্যমিকের প্রথম দিনে খোশমেজাজে পরীক্ষার্থীরা
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ ছোট প্রশ্ন ‘কমন’ পেয়েছে। কেউ সহজ বিষয় পেয়ে চুটিয়ে টিকা লিখেছে। সোমবার মাধ্যমিক প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে পরীক্ষার্থীরা। ‘শুরু ভালো হলে শেষটাও ভালো হবে,’ বলছেন আশাবাদী অভিভাবকরা।বাগবাজারের নিবেদিতা স্কুল হোক কিংবা কালীঘাটের দেশবন্ধু বালিকা বিদ্যালয়, পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে চাপা টেনশন। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তবে সব টেনশন উধাও সহজ প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে। পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে অধিকাংশ পড়ুয়া খুশিতে হেসেছে। দেশবন্ধু বালিকা বিদ্যালয়ে সিট পড়েছিল সহেলি মুখোপাধ্যায়ের। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে বন্ধু রিমার সঙ্গে উত্তর মিলিয়ে নিচ্ছিল। রিমা ও সহেলির বক্তব্য, ‘খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। ১০০ শতাংশ অ্যাটেন্ড করেছি। এখন রেজাল্ট কী হয় দেখা যাক।’জীবনের প্রথম বড়ো পরীক্ষা, টেনশন স্বাভাবিক। তাই কেন্দ্রে ঢোকার আগে অনেকেই শেষ মুহূর্তে বইয়ের পাতায় চোখ বোলাতে ব্যস্ত। ‘টেনশন করিস না, মন শান্ত রাখ’ কিংবা ‘এখন এত বই দেখিস না, গুলিয়ে ফেলবি,’ হলের বাইরে দাঁড়িয়ে বাবা-মা’রা উপদেশ দিয়ে গেলেন ছেলে-মেয়েকে। অভিভাবকরা কেউ সন্তানের পেনসিল বক্সে গুঁজে দিলেন ঠাকুরের আশীর্বাদী ফুল। কেউ ব্যাগে বা বুক পকেটে দিয়ে দিলেন দেবতার ছবি। সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে আশা-আকাঙ্খা-টেনশনের দোলাচল ফুটে উঠল অভিভাবকদের চোখেমুখে।সোমবার মাধ্যমিক শুরুর দিন পড়ুয়াদের স্বস্তি দিয়েছে যেমন, তেমনই প্রশাসনও নিশ্চিন্ত। শহর-শহরতলি তো বটেই, রাজ্যজুড়ে কোথাও বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরীক্ষা বাতিল বা দেরিতে শুরু হয়েছে, এমন কিছু শোনা যায়নি। ফলে প্রথমপত্রের পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা যেমন বুকে সাহস পেয়েছে, তেমনই প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর না আসায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদও স্বস্তিতে। সকালে পদ্মপুকুর ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজে যান কলকাতার নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার (সিপি) সুপ্রতিম সরকার। তিনি পরীক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছো জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি কমিশনার (এসইডি) ভোলানাথ পান্ডে ও বালিগঞ্জ থানার আধিকারিকরা। এরপর সিপি যান ইউনাইটেড মিশনারি গালর্স হাইস্কুলে।অন্যদিকে শহরজুড়ে দেখা গিয়েছে পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যোধপুর পার্ক বয়েজ, যাদবপুর গার্লস স্কুলের গেটে পড়ুয়াদের হলে ঢোকার আগে গোলাপ ফুল, পেন, জলের বোতল ও চন্দনের ফোঁটা দেওয়া হয়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বা ওই এলাকার বিধায়কের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অটো পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কালীঘাটে ছিল আরও চমক। সদানন্দ রোডে তৃণমূলের অফিসে অভিভাবকদের বিশ্রামের আয়োজন ছিল। দেশবন্ধু বালিকা বিদ্যালয়ে সন্তানদের পৌঁছে দিয়ে অনেক অভিভাবক সেখানে বিশ্রাম নিতে যান। বিশ্রামকক্ষে ছিল টিভি। চলছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজগুলি নিয়ে তৈরি প্রচারমূলক সিনেমা ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’। তা দেখতে বেশি ভিড় করেছিলেন মহিলারা। অতিরিক্ত চেয়ার আনতে হয় ভিড়ের কারণে।