‘আর তো দু’দিন, ছাড়টা একটু বাড়িয়ে দিন না’, বইমেলা শেষ আজ বিক্রেতাদের কাছে আবদার পাঠককুলের
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘বল না, বল না! দেখ না একবার চেষ্টা করে। অনেক কেনা হল, হাতে তো আর বেশি টাকা নেই।’ স্টলে বুদ্ধদেব গুহ’র ছোটগল্পের বইটি কেনার আগে নিজেদের মধ্যে নীচু গলায় আলোচনা দুই বান্ধবীর। শেষমেশ বিক্রেতার কাছে আবদার করেই ফেললেন প্রিয়স্মিতা সেন। প্রায় কাতর গলায় বললেন—‘১০ শতাংশটা ২০ করে দিন না প্লিজ।’ তরুণীর দাবি, ‘আর তো মাত্র দু’টো দিন, ছাড়টা দিন না খানিক বাড়িয়ে। তাহলে তো এই কয়েকটা বইও কিনতে পারি।’সোমবারও ভিড় মেলাপ্রাঙ্গণে উপচে পড়েছে। এতটা হয়ত ভাবতে পারেননি মেলার বিক্রেতারা। আদতে সোমবার থেকে যেন শুরু ‘বইমেলার ইয়ার এন্ড’। শেষবেলায় সর্বত্র দেদার চলেছেছাড় সংক্রান্ত দরদাম। মেলায় ১০ শতাংশ ছাড় বেধে দিয়েছে পাবলিশার্স ও বুক সেলার্স গিল্ড। কিন্তু তার ফাঁক গলে হলেও ক্রেতাদের আবদার ফেলতে পারেনি অনেক প্রকাশনা সংস্থাই। শেষপর্বে তাই কোথাও ১২, কোথাও ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন বিক্রেতারা। আবদারের ফল হাতেনাতে ফলেছে। অনেক ক্রেতার ভাগ্যে জুটেছে অতিরিক্ত ডিসকাউন্ট। তারা তাই আহ্লাদে আটখানা।বরানগর থেকে বইমেলায় এসেছিলেন সোমনাথ সরকার। সমরেশ বসুর বইয়ের খোঁজ করছিলেন। বিক্রেতা জানালেন, সে বই রবিবারই শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন কোনও স্টক আর ঢুকবে না। নিরাশ হয়ে ফিরছিলেন সোমনাথ। হঠাৎ করেই ‘কালকূট’ (সমরেশ বসুর ছদ্মনাম) নামে একটি বই হাতে তুলে দিলেন বিক্রেতা। বললেন—‘আপনি যে বইটা খুঁজছিলেন। সেই গল্পটা এই সংকলনের মধ্যে আছে। আরও বাড়তি পাঁচটা গল্প সঙ্গে পাবেন। আপনার পছন্দের বইটার থেকে এটির দাম ৬০ টাকা মাত্র বেশি।’ আকৃষ্ট হলেন সোমনাথ। তবে কম হলেও দাম চলে যাচ্ছে বাজেটের বাইরে। অগত্যা ধরলেন আবদার। ‘ডিসকাউন্টটা একটু বেশি হবে না? তাহলেই বইটা নিয়ে নিতে পারি।’ বিক্রেতা না, না করলেও শেষমেশ ক্রেতাকে খালি হাতে ফেরালেন না। ১৫ শতাংশ ছাড় দিলেন। ব্যাগে কালকূট ভরে হাসি মুখ সোমনাথের।বইমেলার শেষ লগ্নে ক্রেতাদের একটাই চাহিদা— ‘আরও ডিসকাউন্ট, আরও ডিসকাউন্ট।’ ভাঙা মেলায় গেলে একটু কমে যেমন জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তেমনই ছবি শেষ পর্বের বইমেলায়। পড়ার নেশায় ছুটে এলেও পকেটে টান পড়ছে অনেকের। তাই শেষের দিকে ছাড় বৃদ্ধির আবদারের ফিসফিস। ক্রেতাদের অনেকে এই ক’দিনে বইমেলায় বহু টাকার বই কিনেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘মনে আশা থাকলেও এখন পকেট সঙ্গ দিচ্ছে না। ডিসকাউন্ট বাড়লে পকেট আশ্বস্ত হয়। আরও কেনা যায়।’বিক্রেতা ও ছোটো প্রকাশনা সংস্থাগুলিরও বক্তব্য, ‘আমরা চাই মানুষ বই কিনে পড়ুক। মোবাইল, ইনস্টাগ্রাম রিল, ফেসবুকে রিচের যুগে যদি দু-পাঁচ শতাংশ ছাড় বেশি দেওয়া যায় এবং তার ফলে মানুষের হাতে বেশি করে বই ওঠে, উঠুক না। এটাই তো চাই আমরা।