• সাড়ে ৪ লক্ষের বাবার নাম ভুল! তুঘলকি কমিশনে ক্ষুব্ধ ভোটাররা
    বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জেলা উত্তর ২৪ পরগনায় এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ গভীর হচ্ছে। ভোটারদের যাবতীয় দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের একের পর এক ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্ত! এই অবস্থায় জানা গিয়েছে, জেলার প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে স্রেফ বাবার নামে সামান্য ভুল বা গরমিল থাকার জন্য। তাছাড়া, এরকম ছোটোখাটো কারণে এক-একজনকে একাধিকবার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে কমিশনের ‘খামখেয়ালি’ আচরণের এখানেই শেষ নয়! এই জেলার প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটারকে এসআইআরে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এদিকে, কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি পর্ব শেষ করতেই হবে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৬ লক্ষ শুনানি হয়েছে বলে খবর। ফলে এই চার-পাঁচ দিনে প্রায় ১২ লক্ষ ভোটারের শুনানি কীভাবে সম্ভব, ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না এসআইআরের সঙ্গে যুক্ত কর্মী-আধিকারিকরা। রাতদিন এক করে কাজ করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবার শুনানি শেষ করা কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা। সার্বিক অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভোটাররা।রাজ্যের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় জেলা থেকে সর্বাধিক নাম বাদ যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। প্রতিদিন হাজারে হাজারে মানুষ শুনানি কেন্দ্রে লাইন দিচ্ছেন। দুর্ভোগে জেরবার হতে হচ্ছে তাঁদের। প্রশাসন সূত্রে খবর, একজন বাবার ছ’জনের বেশি সন্তান, এমন ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭৫৬ ভোটারকে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। বাবার নামে গরমিলের কারণে ডাক পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৮১ জন। তবে এক্ষেত্রে সিংহভাগই সামান্য ত্রুটির জন্য ডাক পেয়েছেন বলে খবর। যেমন, কোনো ক্ষেত্রে বাবার নামের আগে পূর্ণচ্ছেদ পড়ে গিয়েছে। কোথাও নামের মধ্যে ‘চন্দ্র’, ‘কুমার’ ইত্যাদি যুক্ত থাকায় গরমিল এসেছে। তাঁদের প্রত্যেককে ‘সন্দেহজনক ভোটার’ মনে করেছে কমিশন। বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমায় এসব কারণে নোটিস পাওয়া ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এই জায়গা থেকেই তৃণমূলের প্রশ্ন, তাহলে কি ঘুরপথে নির্বাচন কমিশনের ‘টার্গেট’ মতুয়া ও সংখ্যালঘুরা?জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনায় মোট ১৭ লক্ষ ২০ হাজার ৮৪ জনকে এসআইআরের নোটিস পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে হিয়ারিং সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৬৫ জনের। তাহলে ৭ ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যে কীভাবে শুনানি শেষ হবে? চিন্তা বাড়ছে কর্মী-আধিকারিকদের। নথির ঘাটতির কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় বহু পরিবার উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে। কাজের চাপে নাজেহাল নির্বাচনি কর্মী-আধিকারিকদের কেউ কেউ শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছেন। সব মিলিয়ে ভোটার তথা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)