এলাকা কার? প্রোমোটিং নিয়ে দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে উত্তপ্ত কাঁকুলিয়া
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়ায় দুই গোষ্ঠীর গুলি -বোমার লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদ। এক পক্ষ চাইছিল, এলাকায় তার দখল বজায় রাখতে। বিরোধী গোষ্ঠী টার্গেট ছিল, ওই এলাকায় আবাসন নির্মাণের নিয়ন্ত্রণ। কাঁকুলিয়া কাণ্ডের তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। একইসঙ্গে পুলিশের উপর হামলার নেপথ্যে সাট্টা সঞ্জু নামে এক যুবক জড়িত বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই ঘটনায় তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। গোলমালে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রবীন্দ্র সরোবর থানা।রবিবার ভর সন্ধ্যায় বোমা গুলির চলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়ায় কাঁকুলিয়া রোডে। গুলিতে আহত হন গণেশ নামে এক ব্যক্তি। মাথায় চপারের কোপ লাগে সনৎ শর্মা নামে এক যুবকের। কিন্তু কেন এই ঘটনা ঘটল, তাই নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে থানা। তদন্তকারীরা জেনেছেন, পঞ্চাননতলা এলাকার বাসিন্দা বাপি হালদার বহুতল তৈরির বরাত নেয়। নিজের এলাকা ছাড়াও কসবার একটা বড় অংশে সে আগে কাজ করত। বছর খানেক হলো কসবার দখল হারিয়েছে সে। কসবায় একাধিক নির্মাণ হচ্ছে। সমস্ত কাজ করছে কসবার ছেলে বাবুসোনা মণ্ডল। এলাকা হারানোর কারণে বাপির ক্ষোভ রয়েছে বাবুসোনার প্রতি। আবার বাবুসোনাও নিজের এলাকা ছেড়ে পঞ্চাননতলায় এসে প্রোমোটিংয়ের দখল নিতে চাইছে। যা নিয়ে অনেকদিন ধরেই দু’পক্ষের সংঘাত চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলাকায় অবৈধ সাট্টার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান। অভিযোগ, ঘোলা জলে মাছ ধরতে বাপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে সাট্টা সঞ্জু। রবিবার পিকনিক সেরে ফেরার পথে বাপির দলবল কসবা এলাকায় গাড়ি থামিয়ে বাবুসোনা গোষ্ঠীর ছেলেদের মারধর করে। হারানো জমি ফিরে পেতেই ওই হামলা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কসবা থেকে এলাকায় ফিরে সাট্টা সঞ্জুকে ডেকে পাঠিয়ে বাপি দলবল রেডি করতে বলে। সেইমতো সঞ্জু ও বাপির ছেলেরা জড়ো হয় আর্মস নিয়ে। এর মাঝেই পালটা দলবল নিয়ে বাবুসোনা হানা দেয় পঞ্চাননতলায়। সেখানে দুপক্ষের মধ্যে বোমবাজি চলে। সংঘর্ষের সময় দু’পক্ষই গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলে পুলিশ কর্মীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে সাট্টা সঞ্জু। ইতিমধ্যেই বাবুসোনা গোষ্ঠীর লোকজনকে ধরা হলেও বাপির লোকজন এখনও পলাতক। মূল দুই মাথার খোঁজ নেই। এই ঘটনা নিয়ে সিপি সুপ্রতিম সরকার বলেছেন, একজন অভিযুক্তকেও ছাড়া হবে না।