কড়া নজরদারি, কমেছে দুর্ঘটনা, বারাসতে জরিমানা আদায় ৮ কোটি
বর্তমান | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত জেলা পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারির ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে, মৃত্যুর সংখ্যাও। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কমেছে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা। শুধু তাই নয়, এর জেরে বেড়েছে জরিমানা আদায়ের পরিমাণও। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে মত পুলিশ কর্তাদের। বারাসত জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে জেলায় মোট পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩৯৬টি। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬০-এ। দুর্ঘটনা ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে কমেছে। ২০২৪ সালে জেলায় ১৩৯টি দুর্ঘটনা ছিল প্রাণঘাতী (ফেটাল)। ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১১৭-এ। দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫১ থেকে কমে হয়েছে ১১৯। অর্থাৎ প্রাণহানি কমেছে ২১.১৯ শতাংশ।আহতের সংখ্যাতেও বড়সড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে দুর্ঘটনায় আহত হন ৩৬৩ জন। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০১-এ। প্রাণঘাতী নয় এমন (নন-ফেটাল) দুর্ঘটনাও ২৫৭ থেকে কমে হয়েছে ২৪৩টি। পুলিশের দাবি, এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে নেওয়া একাধিক কড়া পদক্ষেপ। কারণ, বারাসত পুলিশ জেলায় ২০২৫ সালে সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ, দুই ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হয়েছে। জেলায় মোট ১৪১টি সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতা ক্যাম্প করা হয়েছে। সেগুলিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেয়। আইন না মানার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়ে ৫৩৯টি ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে ৭,২৭৯টি ই-চালান কাটা হয়েছে। হেলমেট না পরার অভিযোগে ই-চালানের সংখ্যা ১৭ হাজার ৪১৩। সব মিলিয়ে গত বছর মোট ৬৯ হাজার ৯৬০ ই-চালান কাটা হয়েছে। আর জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা।এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া বলেন, মানুষের নিরাপদ যাত্রার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হয়েছে। জেলার বাদু, খড়িবাড়ি, অশোকনগর সহ মোট পাঁচটি জায়গায় ট্রাফিক গার্ড করা হয়েছে। মূল সড়ক ও ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে গার্ডরেল বসানো থেকে গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এটা ঘটেছে।