সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজ্যে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও, বাড়ছে না ১৮-১৯ বছর বয়সি নতুন প্রজন্মের ভোটার!
বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) প্রক্রিয়া শুরু হতেই এই তথ্য উঠে আসছে। ২০১১–এর পরে দেশে জনগণনা না–হলেও আনুপাতিক হার হিসেব করে নির্বাচন কমিশনের ধারণা, রাজ্যে এই মুহূর্তে জনসংখ্যা ১০ কোটি ছাপিয়ে গিয়েছে। ‘সার’-এর খসড়া তালিকায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬১৬। গত ১৬ ডিসেম্বর রাজ্যে ‘সার’-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় নেই, নিয়ম মতো সে দিন থেকেই তাঁরা ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জানানো শুরু করেছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম, যাঁদের বয়স চলতি বছরের ১ জানুয়ারির মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরাও নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন। ১৯ জানুয়ারি এই আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সার’-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে রাজ্যে ৭ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৭৭ জন ফর্ম–৬ ফিলআপ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। সিইও মনোজ আগরওয়ালের কথায়, এই আবেদনের মধ্যে কত জন নতুন অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের ভোটার (যাঁরা প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জানালেন) সংখ্যাটা সঠিক ভাবে এখনই বল সম্ভব নয়। ‘সার’-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেই এটা বিস্তারিত ভাবে বলা সম্ভব।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকের বেশি সময় ধরেই রাজ্যে ভোটার তালিকায় তরুণ প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা কমছে। ২০২৪–এ ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য তরুণ প্রজন্মের আবেদন জমা পড়েছিল ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৮। ২০২১–এ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে তরুণ প্রজন্ম থেকে ২০ লক্ষ ৪৫ হাজার নতুন ভোটার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছিলেন। ২০১৪–তে লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনীর সময়ে ফর্ম–৬ এর মাধ্যমে নাম তোলার জন্য ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। যার ৯০ শতাংশের বেশি ছিল নতুন ভোটার। তাঁদের নাম প্রথম বার ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছিল।
খসড়া তালিকায় ভোটার ছিল ৫ কোটি ৯৬ লক্ষ ৮১ হাজার। এর মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে ৪ লক্ষ ৪১ হাজারের। ২০২২–এ ১৬ লক্ষ ১৩ হাজার এবং ২০২৩–তে ১৭ লক্ষ ৮৩ হাজার নতুন নাম ভোটার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছিল। এ বার চূড়ান্ত সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা স্পষ্ট না–হলেও ফর্ম–৬ ফিলআপ করে নতুন করে নাম তোলার প্রবণতা এ বার আরও কম বলেই জানাচ্ছেন কমিশনের আধিকারিকরা।
এ বার খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে ফর্ম–৭ জমা দেওয়া নিয়ে জেলায় জেলায় তৃণমূল–বিজেপির সংঘর্ষ হয়েছে। বিজেপির দাবি ছিল, তাদের কাছ থেকে ফর্ম কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়ে ফর্ম জমা দেওয়ার দিনক্ষণ চার দিন বাড়ায়। তারপরেও খসড়া তালিকায় থাকা নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৭ নম্বর ফর্মে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৩১ হাজার ২০৭।