বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের 'শকুনের চোখ' শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন'স নেক-এর দিকে। বার বার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ভারত তো আর চুপ করে বসে থাকবে না। ইতিমধ্যেই চিকেনস নেক-এ সেনা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এবার রেলপথেও মাস্টার স্ট্রোক দিল মোদী সরকার। যার নির্যাস, শত্রুরা কোনও ভাবে হামলা করলেও রেল যোগাযোগে সেনার কাছে সহজেই রসদ পৌঁছে যাবে। রেলপথে কোনও প্রভাব পড়বে না।
চিকেনস নেক-এ স্ট্র্যাটেজিক করিডর ভারতের
কী এই মাস্টার স্ট্রোক? পশ্চিমবঙ্গে মাটির নীচে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে ৪০ কিমি স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই আন্ডার গ্রাউন্ড রেললাইন উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাকি দেশের নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখবে। এই স্ট্র্যাটেজিক করিডর তৈরি হচ্ছে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নিকে। ইউনূস গত বছর বলেছিলেন, 'বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের জন্য একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। আলাদা ভাবে নয়, একসাথে কাজ করলেই আমরা আরও বেশি লাভবান হতে পারব।'
শত্রুদের যে কোনও হামলায় সেনার কাছে রসদ পৌঁছে যাবে আন্ডার গ্রাউন্ডে
তখনই বোঝা গিয়েছিল, ইউনূসের কুমতলব। ভারতও সজাগ। চিকেনস নেকে এমনিতেই সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এবার মাটির তলায় রেল যোগাযোগ মানে, চিন, বাংলাদেশ কোনওভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যকে টার্গেট করলে, মাটির তলায় রেলপথেও যুদ্ধের রসদ পাঠাতে পারবে ভারত। মানে মাটির উপরের রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও, মাটির তলা দিয়ে সেনার কাছে যুদ্ধের সরঞ্জাম, রসদ পৌঁছে যেতে পারবে।
চিকেনস নেক কেন এত সংবেদনশীল?
শিলিগুড়িতে চিকেনস নেক অঞ্চলটি মাত্র ২০ কিলোমিটার। অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ ভূখণ্ড। কিন্তু ভারতের জন্য ভীষণ সংবেদনশীল। মুরগির গলার মতো আকৃতি বলে একে চিকেনস নেক বলা হয়। ভারতের মূল ভূখণ্ড এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিমের একমাত্র স্থলপথ। পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান এবং দক্ষিণ ও পূর্বে বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত। কিছু দূরেই আবার চিনও। সেই চিকেনস নেক-এ ভারতীয় রেলের আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন আরও মজবুত করে দেবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে নিরাপত্তাও।
৪টি লাইন থাকছে উপরে ও দুটি মাটির তলায়
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কথায়, 'উত্তরপূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ মজবুত করতে ৪০ কিমি স্ট্র্যাটেজিক করিডরের প্ল্যান রয়েছে। উপরে থাকা ডাবল লাইনকে ফোর লাইন করে দেওয়া হবে। দুটি রেললাইন থাকবে মাটির নীচে।' যার নির্যাস, মোট ৬টি লাইন, ৪টি থাকছে উপরে ও দুটি মাটির তলায় বা আন্ডার গ্রাউন্ডে। নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার হিতেন্দ্র গোয়েল জানান, এই রেললাইনগুলি তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত চলবে। চেতন শ্রীবাস্তবের কথায়, 'নিরাপত্তার দিক থেকে এই রেললাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
রেলের এক কর্তা জানান, এই প্রকল্পের কাজ যখন শেষ হবে, এটি ৬ লাইনের স্ট্র্যাটেজিক করিডর হয়ে যাবে। বস্তুত, গত বছর চিনে উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন মহম্মদ ইউনূস, তারপরেই নেপাল চেকনস নেকের বিকল্প, অর্থাত্ চিকেনস নেক বাইপাস করে একটি সড়ক পথ তৈরির বিষয়ে বলেছিল। এহেন পরিস্থিতিতে ভারত হাতিয়ার করল রেলকে।