• চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ আটকে রাজ্যের অসহযোগিতাতেই, রেলমন্ত্রীর নিশানায় মমতার সরকার, বললেন, ‘হাই কোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে না
    আনন্দবাজার | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ থমকে রয়েছে। তার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর অভিযোগ, মেট্রোর কাজের গতি থমকে গিয়েছে রাজ্য সরকারের জন্য! অশ্বিনীর কথায়, ‘‘হাই কোর্টের নির্দেশের পরেও চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজে অনুমতি দিচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার।’’ পাশাপাশি পরিসংখ্যান দিয়ে এ-ও দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদীর জমানায় কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ অগ্রগতি পেয়েছে।

    চিংড়িঘাটার মোড়ে মেট্রোর কাজ থমকে অনেক দিন ধরেই। নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণের কাজ আটকে রয়েছে। মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশে কাজ অসম্পূর্ণ। সেই অংশটা ঠিক চিংড়িঘাটা মোড়ে। অভিযোগ, ওই অংশে কাজের জন্য বাইপাসে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই অনুমতি না-দেওয়ায় কাজ এগোনো সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।

    অতীতে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে চিংড়িঘাটা সমস্যার সমাধান করুক। আদালতের নির্দেশ মেনে একাধিক বার চিংড়িঘাটা নিয়ে রাজ্য, কেন্দ্র, নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল-সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতিনিধিদের সদর্থক বৈঠক হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজের গতি সেই চিংড়িঘাটাতেই থমকে রয়েছে। কিছু দিন আগেও বৈঠক হয়। তার পরেই রাজ্য জানিয়েছিল, এই মুহূর্তে রাস্তা বন্ধের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারি মাসেও তা সম্ভব নয়। ফেব্রুয়ারির আগে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ করা যাবে না।

    শেষ শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানায়, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারি চলছে। এখনও ওই অংশে মেট্রোর কাজ শুরু হয়নি। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পরের দিনই রেলমন্ত্রী সেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্য সরকার চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজে সহযোগিতা করছে না বলে মেট্রোর কাজ থমকে আছে। দেড় বছরের বেশি সময় হয়ে গিয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’’

    রেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ৪০ বছরে ২৭ কিলোমিটার কলকাতা মেট্রোর কাজ হয়েছে। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে সেই কাজে গতি এসেছে। গত ১১ বছরে ৪৫ কিলোমিটার মেট্রোর সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে। চিংড়িঘাটার কাজের রাজ্য সরকারের সহযোগিতার আশাপ্রকাশ করেন রেলমন্ত্রী।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর তিনটি লাইনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বাজেটের তুলনায় এই বাজেটে অরেঞ্জ লাইন (দমদম বিমানবন্দর থেকে নিউ গড়িয়া) এবং পার্পল লাইন (জোকা-মাঝেরহাট) বরাদ্দ কমে গিয়েছে। তবে গ্রিন লাইন (হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ)-এ বরাদ্দের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে অরেঞ্জ লাইনের জন্য ৭০৫.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পার্পল লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। গ্রিন লাইনের বরাদ্দ ২৯ কোটি টাকা। ব্লু লাইন মেট্রো (দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম)-র জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)