রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন মোদী! শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনে দাবি ট্রাম্পের, আর কী কী শর্ত?
আনন্দবাজার | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করে দিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু কেন? আচমকা কেন এই সিদ্ধান্ত? সেই ব্যাখ্যাও নিজেই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিবর্তে আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কিনবে ভারত। এ ছাড়া আমেরিকা থেকে ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার পণ্যও ভারত কিনবে কথা বলে দিয়েছেন মোদী। শুল্ক কমানোর নেপথ্যে এগুলিই অন্যতম কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা হয় ট্রাম্পের। দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তারও একটি সারসংক্ষেপও নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডলে পোস্ট করেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি, বাণিজ্য এবং রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের। এর পরেই ট্রাম্প লেখেন, “তিনি (মোদী) রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। আমেরিকার কাছ থেকে আরও অনেক বেশি তেল কিনবে ভারত। সম্ভবত ভেনেজ়ুয়েলার কাছ থেকেও ভারত বেশি করে তেল কিনবে।”
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর পরই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীও। শুল্ক কমানোর জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা বন্ধ করে দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মোদী। যেমন মন্তব্য করেননি ট্রাম্পের দাবি মতো আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কেনা নিয়েও।
‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর পোস্টে ট্রাম্প আরও জানান, শুল্ক সমঝোতার জন্য মোদীই তাঁকে অনুরোধ করেছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার কারণে তাঁর অনুরোধে আমরা ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে অবিলম্বে একটি বাণিজ্য চুক্তি (শুল্ক সমঝোতা) সেরে নিতে সম্মত হয়েছি। এর আওতায় ভারতের উপর আমেরিকার পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ হবে। একই ভাবে ভারতও আমেরিকার জন্য তাদের শুল্ক সংক্রান্ত এবং অন্য (বাণিজ্যিক) প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে উদ্যোগী হবে।”
ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্ক হ্রাসের পরিবর্তে ভারত আরও বেশি করে মার্কিন পণ্য কিনবে। সমঝোতায় তেমনটাই স্থির হয়েছে। আমেরিকা থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের ( ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার) শক্তি, প্রযুক্তি, কয়লা, কৃষিজ পণ্য-সহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার কথা দিয়েছেন মোদী।
বস্তুত, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ভারতের উপরে চড়া হারে শুল্ক চাপানোর নেপথ্যেও সেটি ছিল অন্যতম কারণ। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ভারতীয় বাজারে মার্কিন পণ্যের উপর অনেক চড়া শুল্ক নেওয়া হয়। সেই কারণে প্রথমে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ ‘পারস্পরিক শুল্ক’ চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ‘জরিমানা’ বাবদ আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান। এতদিন আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল।
সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতের উপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা শুল্ক’ থাকবে, না প্রত্যাহার করা হবে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট হয়নি। পরে হোয়াইট হাউসের আধিকারিক সূত্রে রয়টার্স জানায়, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর চাপানো ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা শুল্ক’ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে আমেরিকা। এই শুল্কটি ২৫ শতাংশ ‘পারস্পরিক-শুল্ক’-এর উপরে অতিরিক্ত হিসাবে চাপানো হয়েছিল।