• পাশে 'মৃত' বাঙালিরা, দিল্লিতে মমতার মুখে বাংলার মেয়ে
    আজকাল | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবারের পর, মঙ্গলবার। দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে ফের এসআইআর নিয়ে সুর চড়ালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর গলায়, বাংলার মেয়েদের কথা। একহাত নিলেন নির্বাচন কমিশনকে, নিশানায় জ্ঞানেশ কুমারও। 

    সোমবারেও, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর, সফর সঙ্গী অভিষেক এবং এসআইআর আতঙ্কে মৃত পরিবারের সদস্য এবং এসআইআর তালিকায় মৃত অথচ জীবিত, বেশ কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। সোমের পর, মঙ্গলবারেও, তাঁদের নিয়ে ফের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা ব্যানার্জি। 

    প্রথম পর্বে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের নিজেদের স্বপক্ষে বভলার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে এদিন ফের সুর চড়ান মমতা। প্রসঙ্গ তোলেন সীমা খান্নার। তোপ দাগের এআই নিয়ে। অভিযোগ, এআই দিয়ে, বাদ দেওয়া হচ্ছে নাম। 

    নিজের কেন্দ্র, ভবানীপুর নিয়েও এদিন মমতা বলেন, 'আমার বিধানসভায় প্রায় ২ লক্ষা মতো ভোটার রয়েছে। তথ্য অসংগতি দেখিয়ে ৪৫ হাজারের নাম বাদ দিয়েছে। ইআরওরা জানেই না।  বিজেপির বিধানসভা কেন্দ্রে কম নাম বাদ যাচ্ছে। তৃণমূলের বিধানসভা কেন্দ্রে ৮০ হাজার, এক লক্ষের মতো নাম বাদ দিতে চাইছে কমিশন।'

    বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের বলেন, বিজেপি বাংলায় ভোটে জিততে না পেরে নানা পন্থা অবলম্বন করছে। বক্তব্যে মনে করালেন গান্ধীজিকেও। বলেন, 'সাতচল্লিশে যখন দাঙ্গা হচ্ছিল গান্ধীজি বাংলায় ছিলেন। আমরা সবাইকে সম্মান করি। ওরা বাংলাকে ভোটে জিততে পারে না, তাই এসব করছে।' 

    এর আগে, সোমবার, প্রায় ঘণ্টাখানেকের বৈঠকের পর, নির্বাচন সদনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা ব্যানার্জি। সুর চড়িয়ে বললেন, 'এমন নির্বাচন কমিশন কখনও দেখিনি।'  এদিন বৈঠক শেষে মমতা বলেন, 'আমি চারবারের মন্ত্রী, সাতবারের সাংসদ ছিলাম, আমি কখনও এরকম নির্বাচন কমিশন দেখিনি। উদ্ধত, মিথ্যেবাদী।' আমি বলেছিলাম, আমি চেয়ারের সম্মান করি। কারণ কোনও চেয়ার  স্থায়ী নয় কারও জন্য।' সীমা প্রসঙ্গ মমতার গলায়। বলেন, 'সীমা খান্না কে? নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের।' 

    এসআইআর, লকিজ্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে আগেও সুর চড়িয়েছেন মমতা। এই দু'দিন দিল্লিতে দাঁড়িয়ে বোঝালেন স্পষ্ট করে, অন্যান্য রাজ্যের থেকে এই রাজ্যে পদবীর ব্যবহারে ভিন্নতা। নিজের উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন, ইংরেজিতে মমতা ব্যানার্জি লেখা হলেও, বাংলায় তা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চ্যাটার্জি, চট্টোপাধ্যায়। এভাবেই বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। অভিযোগ এআই দিয়ে একনাগাড়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের বিয়ের পর, ঠিকানা বদলের কারণে, পদবী বদলের কারণেও বহু নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। নির্বাচনের তিনমাস আগে কেন এসআইআর? সেই প্রশ্নও দিল্লিতে ফের করেন মমতা ব্যানার্জি। 
  • Link to this news (আজকাল)