ইন্দ্রজিৎ সাহু: জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে শুধু স্বপ্নই যথেষ্ট নয়। তার জন্য দরকার মেধা, কঠোর অধ্যবসায় এবং অদম্য নিষ্ঠা। সেই পথ ধরেই অভাবের সংসার থেকে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় পৌঁছে গেলেন খড়গপুর দুই নম্বর ব্লকের পপড়আড়া (৬/২) গ্রাম পঞ্চায়েতের বাড়বাঁশী গ্রামের সুমন বেরা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় উজ্জ্বল সুমন বাড়বাঁশী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজরকাড়া ফল করেন। অষ্টম শ্রেণি থেকেই স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে আসা এই ছাত্র বর্তমানে জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন।
সংসারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল নয়। বাবার এক বিঘা চাষজমি ও অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া একতলা বাড়িই ছিল পরিবারের ভরসা। সেই সাধারণ ঘর থেকেই আজ মাইক্রোসফটের অধীন পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইন-এ বছরে প্রায় এক কোটি টাকার চাকরির অফার পেয়েছেন সুমন।
সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের জুলাই মাসে বেঙ্গালুরুতে যোগ দেবেন তিনি। সুমনের কথায়,"এত ভালো অফার পাব ভাবিনি। সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।"
পরিবারে বাবা-মা ছাড়াও রয়েছেন দুই দিদি। একজনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে সংসার চলে বাবার সীমিত আয় ও ছোট দিদির টিউশনের উপার্জনে। ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা অচল কুমার বেরা বলেন, "ওর এই সাফল্যে আমরা খুব খুশি। এবার হয়তো সংসারে একটু স্বচ্ছলতা আসবে।" পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও কারিগরি চর্চায় বরাবরই আগ্রহী ছিলেন সুমন। সেই আগ্রহই তাঁকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে লিঙ্কডইনের ইন্টার্নশিপের সুযোগ এনে দেয়।
বেঙ্গালুরুতে তিন মাসের প্রশিক্ষণকালীন কাজের পর তাঁর দক্ষতা দেখে সম্প্রতি বছরে প্রায় এক কোটি টাকার চাকরির 'অফার লেটার' দেওয়া হয়েছে। গ্রামের ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত পপড়আড়া (৬/২) গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সনাতন বেরা জানান, "ও আমাদের গর্ব। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ওকে অভিনন্দন ও সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।" গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই আন্তর্জাতিক সংস্থায় পৌঁছনোর এই কাহিনি এখন এলাকার বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম।