• ছাগলচুরির কথা ফাঁস করে দেওয়ার ভয়ানক পরিণতি যুবকের, কড়া সাজা শোনাল আদালত
    ২৪ ঘন্টা | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বিধান সরকার: বিবাদের মূলে একটি ছাগল চুরির ঘটনা। তার জেরেই খুন হয়ে গিয়েছিলেন চুঁচুড়ার এক তরতাজা যুবক। তাকি পিটিয়ে খুন করে এলাকারই ২ যুবক। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত ২ যুবকের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করল চুঁচুড়ার আদালত।

    ঘটনাটি ২০২১ সালের ১১ জুলাইয়ের। ছাগল চুরি করে পিকনিক করেছিলেন চুঁচুড়া থানার নন্দীর মাঠ এলাকার কয়েকজন যুবক। সেই কথা জানতে পারেন তপন নামের ওই যুবক। ওই কথা জানতে পেরেই যার ছাগল ছুরি হয়েছিল তাকে সবকিছু বলে দেয় তপন। ফলে সেই রাগ তপনের উপরে পডে এলাকার যুবকদের।

    ঘটনার দিন রাস্তায় তপনকে দেখা পেয়ে তাকে প্রবল মারধর করে অনুপম দাস ও অরুণ পাশোয়ান নামে ২ যুবক। গোলমালের শব্দ পেয়ে জড়ো হয়ে যায় স্থানীয় মানুষজন। তারাই তপনকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। 

    তপনের মা রীতা মালিকের অভিযোগ, ওই দিন রাতে ঠাকুমার সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন তপন। সেসময় আবার তাদের বাড়িতে চড়াও হয় অভিযুক্তরা। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় তপনকে। সারা রাত বাড়ি ফেরেনি ছেলে। পরের দিন সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় নন্দীর মাঠ এলাকা থেকে। ১৩ই জুলাই ২০২১ তারিখে তপনের মা পুচি দাস, বিট্টু দাস, অনুপম দাস এবং অরুন দাস, ৪ জনের নামে চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রীতা।

    চুঁচুড়া আদালতের সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গাঙ্গুলী জানান, চার জনের নামে অভিযোগ দায়ের হলেও তদন্ত শেষে তদন্তকারী অফিসার ৮ই অক্টোবর ২০২১ তারিখে চার্জশিট জমা দেন। ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জন ঘটনার সাক্ষ্য দেন। চার জনের মধ্যে দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমান না হওয়ায় আদালত তাদের মামলা থেকে মুক্তি দেয়। বাকী দুই অভিযুক্ত অনুপম দাস ও অরুন পাশোয়ানকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারকে রিন্টু সুর দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকার জরিমানা ধার্য করেন। অনাদায়ে আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)