• একরাশ স্বপ্ন নিয়ে মাধ্যমিকে অনাথ আশ্রমের আবাসিকরা
    এই সময় | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, ভগবানপুর: ওদের কারও বাবা নেই। আবার কারও মা নেই। আবার কারও বাড়ির লোক বলতে কেউই নেই। কিন্তু চোখ জুড়ে রয়েছে শুধু স্বপ্ন। পড়াশোনা করে এগিয়ে যাবে ওরাও-এমনটাই চান ভগবানপুর ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম কর্তৃপক্ষ। তাই পড়াশোনায় ওদের কোনও ত্রুটি রাখেননি তাঁরা। সেখান থেকে এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে সুস্মিতা, পায়েল, সুরজিৎ, রিজু, শান্তনু ও রিভুপ্রিয়রা।

    ওই আশ্রমের ১৪ জন আবাসিক পাঁউশি বৈকুণ্ঠ স্মৃতি মিলনী বিদ্যামন্দিরে পড়ত। সবাই মাধ্যমিক দিচ্ছে। এই অনাথ আশ্রমই এখন শান্তনু, সুস্মিতাদের বাড়ি। পরিবার বলতে আশ্রম কর্তৃপক্ষ। আশ্রমের শিক্ষকদের কাছেই ওদের পড়াশোনা। প্রাইভেট টিউটর বলতেও তাঁরাই। আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণ বলেন, 'এরা প্রত্যেকেই কঠোর পরিশ্রম করছে এবং নিজেদের তৈরি করছে, যাতে আগামী দিনে প্রত্যেকেই ভালো রেজাল্ট করতে পারে। আমরা এদের পড়াশোনায় যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার চেষ্টা করেছি। আশ্রমই ওদের পরিবার। ওরা আমার ছেলে-মেয়ের মতো।'

    তিনি বলেন, 'একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে অনাথ আশ্রম থেকে এদের চলে যেতে হয়। তাই আমরা চাই ওরা পড়াশোনার পাশাপাশি হাতের কাজ শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াক।' তাই নিয়মিত হাতের কাজও শেখানো হয় ওই আশ্রমে। মাধ্যমিকে যারা ভালো রেজ়াল্ট করবে তাদের উচ্চশিক্ষার বিষয়েও সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান আশ্রম কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেকেই খুব আশাবাদী, তারা এ বছর ভালো ফল করবে। সেই ভাবেই তারা নিজেদের প্রস্তুত করেছে।

    পায়েল, রিজুরা বলে, 'স্কুলের শিক্ষকরা খুব যত্ন সহকারে পড়াতেন। আর যেখানে যা বুঝতে পারতাম না আশ্রমের শিক্ষকরা বুঝিয়ে দিতেন। তাই কোনও অসুবিধা হয়নি। তবে দিনে অনেকক্ষণ পড়াশোনা করেছি। আশা করি ভালো ফল করতে পাবর।' আশ্রমের শিক্ষকরা জানান, এই ছেলেমেয়েদের পাশে তাঁরা সবসময় থাকবেন।

  • Link to this news (এই সময়)