• আইন না মানলে ভারত ছাড়ুন, হোয়াটসঅ্যাপকে সুপ্রিম তোপ
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: ‘কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপনারা ছেলেখেলা করতে পারেন না। আমাদের এক বিন্দু তথ্যও ফাঁস করতে দেব না। দেশের আইন-সংবিধান না মানতে পারলে, ভারত ছেড়ে চলে যান।’ গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে মঙ্গলবার হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মার্কিন এই মেসেজিং অ্যাপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটা। তাদেরই মঙ্গলবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে মার্কিন এই সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে তিরস্কার করে দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সাফ বক্তব্য—ভারতীয়দের উপর কোনও ধরনের শোষণ বরদাস্ত করা হবে না।২০২১ সালে নতুন ‘প্রাইভেসি পলিসি’ কার্যকর করে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন সেই নীতিতে জানানো হয়, ‘এই অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও তথ্য শেয়ারে সম্মতি দিতে হবে। নাহলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না।’ তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি উঠতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনে’র কথা বলা হলেও হোয়াটসঅ্যাপ থেকে দেদার তথ্য এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে ব্যবসায়িক স্বার্থে। আর তা শত্রু দেশের হাতেও চলে যাচ্ছে। এর জেরে সংকটে পড়তে পারে জাতীয় সুরক্ষা। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (সিসিআই)। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শেষ হয় তদন্ত। সিসিআই সাফ জানায়, নিজেদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ওই সুরক্ষাবিধি মেনে নিতে বাধ্য করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর জেরে ২১৩ কোটি টাকার জরিমানা করা হয় মেটাকে। হোয়াটসঅ্যাপের নয়া ‘প্রাইভেসি পলিসি’র উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করে সিসিআই। গত নভেম্বরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি)। কিন্তু জরিমানা বহাল রাখা হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মেটা। এদিন সেই মামলার শুনানিতে মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপকে একযোগে ভর্ৎসনা করেছে শীর্ষ আদালত।হোয়াটসঅ্যাপের আইনজীবী অবশ্য সওয়ালে জানান, সমস্ত নিয়ম মেনেই গোপনীয়তার নীতি তৈরি করা হয়েছে। তখনই কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলে ওঠেন, সাধারণভাবে বোঝা না গেলেও বাণিজ্যিক স্বার্থে সাধারণ মানুষের তথ্য আদানপ্রদান করা হচ্ছে। সেকথা শোনার পর প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘বিষয়টিকে কোনোভাবেই মান্যতা দেওয়া যায় না। যদি আপনারা আমাদের সংবিধান মানতে না পারেন, তাহলে ভারত ছেড়ে চলে যান। জনসাধারণের গোপনীয়তা নিয়ে আপস করা যাবে না।’ শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে— ‘হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতির অনেক বিষয় স্পষ্ট নয়। অনেক সময় আমরাই বুঝতে পারি না। তাহলে গ্রামাঞ্চলের গরিব, অশিক্ষিত সাধারণ মানুষ, বিহারের প্রত্যন্ত এলাকার কোনো বাসিন্দা কীভাবে সবটা বুঝবেন? এই সুযোগেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না। এমনকি এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন দেশের প্রধান বিচারপতি। বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপে ডাক্তার কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করলে... সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপন আসা শুরু হয়ে যায়!’
  • Link to this news (বর্তমান)