• বাঘের হানায় মানুষের মৃত্যু অব্যাহত, তবুও পরিকল্পনা খাতে বাজেট কমাচ্ছে কেন্দ্র
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গত পাঁচ বছরে বাঘের আক্রমণে অনেক মানুষের প্রাণ গিয়েছে। কোনো রাজ্যে বেশি, কোথাও তুলনামূলক কম। কিন্তু বাঘে-মানুষে সংঘাতে মৃত্যু অব্যাহত। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির (এনটিসিএ) সদ্য প্রকাশিত পুস্তিকায় তুলে ধরা হয়েছে এই উদ্বেগের চিত্র। অথচ এই সমস্যা দূর করতে যে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ করা হবে, সেই খাতে বরাদ্দ কমানোর ইঙ্গিত মিলেছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বাঘের আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনাগুলির কোনও গুরুত্ব নেই কেন্দ্রের কাছে? সূত্রের খবর, ২০২৫-২৬ সালে এই খাতে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে এই বাজেট ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ সালের জন্য কমিয়ে অর্ধেক (৪ কোটি) ধরা হয়েছে।এনটিসিএর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশে বাঘের হামলায় প্রাণ গিয়েছে ৩৮২ জনের। ২০২৫-এর রিপোর্ট এখনও তৈরি হয়নি। তবে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, এবারের হিসেব যুক্ত করলে সংখ্যাটা ৪০০ ছাড়িয়ে যাবেই। এই পাঁচ বছরে শুধু মহারাষ্ট্রতেই ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। তারপরই আছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে মারা গিয়েছেন ৬১ জন। এনটিসিএ’র আধিকারিকদের দাবি, এসব রাজ্যে বাঘ থাকার ‘কোর এরিয়া’র কাছাকাছি অনেক গ্রাম আছে। মাঝেমধ্যে বাঘ বেরিয়ে চলে আসছে জনবসতি অঞ্চলে। তাতেই ঘটছে প্রাণহানি। যেমন, মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায় এই সংঘাত সব থেকে বেশি।  অনেক গ্রাম আবার একেবারে জঙ্গল ঘেঁষা। তাতে আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে। সংখ্যার বিচারে বাংলায় বাঘের হানায় মৃত্যু তুলনামূলক কম। কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ‘কোর এরিয়া’ লাগোয়া জনবসতি সরিয়ে ফেলে সেখানকার মানুষজনকে অন্যত্র পুনর্বাসন দিলে এই ধরনের মৃত্যু কমবে। কারণ, খাবারের সন্ধানে বাঘ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে। তাতে বিপদ বাড়ছে। এই সংঘাত ঠেকাতে নানা পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। কিন্তু এর জন্য যে বাজেট ধরা হয়েছে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কেন কমানো হল বাজেট? আধিকারিকদের একাংশের দাবি, পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে, মৃত্যুর হার অনেক রাজ্যেই নিম্নগামী। তাছাড়া যেখানে বাঘের হামলায় মৃত্যুর ঘটনা বেশি, শুধু সেখানেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে নানা কাজ করা হবে। বিগত বছরগুলিতে একাধিক কর্মসূচি নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যদিও সমস্যা একদম নির্মূল করা যায়নি। তাই আগের পরিকল্পনার বাকি কাজগুলি শেষ করতে পারলেই বাঘের আক্রমণে মৃত্যুর হার আরও কমানো যাবে বলে আশা করছে কেন্দ্র।
  • Link to this news (বর্তমান)