ভারতে প্রবেশ অবাধ হবে আমেরিকার কৃষিপণ্যের, দাবি মার্কিন কৃষিসচিবের
বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ভারতের কৃষকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েই আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত সরকার। আমেরিকার কৃষিপণ্যের ভারতে অবাধ রপ্তানির ছাড় দেওয়া হয়েছে। আবার একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেলও কেনা যাবে না এবং আমেরিকা থেকেই পেট্রপণ্য ক্রয়ের শর্ত মেনে ভারতের চরম স্বার্থহানি ঘটানো হয়েছে। আমেরিকার কাছে এক নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ? এই মর্মে সম্মিলিতভাবে বিরোধীরা আক্রমণ করেছে মোদি সরকারকে। কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পাটি, শিবসেনা, রাষ্ট্রীয় জনতা দল সহ গোটা ইন্ডিয়া জোট এককাট্টা হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এ ব্যাপারে জবাবদিহি চেয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, ভারত সরকারের যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করে দিচ্ছেন কেন?অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন আচমকা যুদ্ধবিরতি, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণার পর এবার এই বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ভারতের সরকারি বিবৃতির তোয়াক্কা না করেই ট্রাম্প বিশ্বকে নিজের মতো করে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কী সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোমবার রাতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, প্রথম বাণিজ্য চুক্তির কথা। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান যে, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন কৃষিসচিব ব্রুক রোলিন্সের বিবৃতিতে। রোলিন্স মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তির জেরে ভারতের বিপুল বাজারে এবার আমেরিকার কৃষিপণ্য অবাধে প্রবেশ করতে পারবে। ২০২৪ সালে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১০৩ কোটি ডলার। এবার ভারতের বিরাট জনসংখ্যার বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য বিক্রি করার বৈপ্লবিক সুযোগ করে দেবে এই চুক্তি। আর তার জেরে ভারতের থেকে নগদ অর্থ আমেরিকায় প্রবেশ করবে বহুগুণ বেশি। রোলিন্স বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছেন, এই প্রথম আমেরিকার কৃষি বাণিজ্যে এত বড় জয় পাওয়া গেল। ট্রাম্পের দলের সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ওয়েল প্লেইড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আমার মনে হয় এবার বাকি দেশগুলি আপনার বার্তা পেয়ে যাবে। অন্যরাও ভারতের পথে হাঁটবে শীঘ্রই। রাশিয়ার আর্থিক রক্তক্ষরণ শুরু হল বলে। এভাবে মার্কিন প্রশাসন, বাণিজ্যমহল, রাজনৈতিক দল এত উচ্ছ্বসিত কেন? প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। বলেছে, কৃষি পণ্য নিয়ে মার্কিন সরকার দাবি করছে তাদের বিরাট জয় হয়েছে। বিনা শুল্কে কৃষি পণ্য ঢুকবে ভারতে। এর ফলে ভারতের কৃষকদের সর্বনাশ হবে শুধু এমন নয়। ভারতের গরিব ও মধ্যবিত্তকে আগামী দিনে অনেক বেশি দামে নানাবিধ খাদ্যপণ্য কিনতে হবে। কারণ কৃষিপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। আর মার্কিন রপ্তানির কারণে ভারতের উৎপাদন মার খাবে। এদিকে ভারত সরকার বিরোধীদের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের দাবি, কৃষি ও ডেয়ারি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। চুক্তিতে কোনো অবাধ ছাড় নেই। ভারতের কৃষকদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয় সরকার। আমি সংসদেই চুক্তি নিয়ে বলতে চেয়েছিলাম। বিরোধীরা মিথ্যা প্রচার করছে। এর আগে তাঁর মন্ত্রকও জানিয়েছিল, ভারত চুক্তি নিয়ে কোনও আপস করেনি। যে অনড় মনোভাব আমাদের ছিল, সেই শর্তেই চুক্তি হবে। যদিও বিরোধীদের দাবি, বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলি জনগণকে জানানো হোক। সংসদ চলছে। সেখানেই সব ধোঁয়াশা কাটানো দরকার।